দুনিয়ার সুখ সুখ না, জান্নাতের সুখই আসল সুখ

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোন কাজটি আল্লাহর নিকট সবচাইতে প্রিয়? তিনি বললেন, ‘ঠিক সময়ে নামায আদায় করা।’ তিনি (আবদুল্লাহ) পুনরায় বললেন, এরপর কোন কাজটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়? নবী (সাঃ) বললেন, ‘পিতামাতার সেবা ও আনুগত্য করা। তিনি আবারও জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কোন কাজটি? জবাবে নবী (সাঃ) বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

দুনিয়া ক্ষনস্থায়ী, নিশ্চই আমিও দুনিয়ায় ক্ষনস্থায়ী

“ তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানুষের(কল্যাণের) জন্য তোমাদেরকে বের করা হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে।” -সূরা আল-ইমরান, আয়াত-১১০

দুনিয়ার দুঃখ দুঃখ না, জাহান্নারের দুঃখ আসল দুঃখ

হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমাকে দেখেছে এবং আমার উপর ঈমান এনেছে তার জন্য তো একবার মোবারকবাদ। আর যে আমাকে দেখে নাই তারপরেও আমার উপর ঈমান এনেছে তাকে বারবার মোবারকবাদ - মুসনাদ আহমাদঃ ৩/১০০

নামাজ বেহেস্তের চাবি

রাসুলে পাক (সা:) বলেছেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমার উম্মতের উপর সর্বপ্রথম নামাজ ফরজ করেছেন এবং কেয়ামতের দিন সবার আগে নামাজের হিসাব নয়া হবে।

কালেমা পড়ি, ঈমান আনি, বলি আমি মুসলিম

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোন কাজটি আল্লাহর নিকট সবচাইতে প্রিয়? তিনি বললেন, ‘ঠিক সময়ে নামায আদায় করা।’ তিনি (আবদুল্লাহ) পুনরায় বললেন, এরপর কোন কাজটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়? নবী (সাঃ) বললেন, ‘পিতামাতার সেবা ও আনুগত্য করা। তিনি আবারও জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কোন কাজটি? জবাবে নবী (সাঃ) বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

Saturday, October 17, 2015

ভবিষ্যতে ইসলাম ও মুসলমানের নিশ্চিত বিজয়

নিকট ভবিষ্যতে ইসলাম ও মুসলমানের

               নিশ্চিত বিজয় প্রসঙ্গে


উবায়দুর রহমান খান নদভী :

আজ থেকে ৮৫৭ বছর আগে অর্থাৎ ১১৫৮ সালে উপমহাদেশের বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব শাহ নেয়ামতুল্লাহ (রহ.) একটি কাসিদা বা কবিতা রচনা করেন। সাধকসুলভ দিব্যদৃষ্টি নিয়ে গভীর ধ্যান অভিনিবেশসহ রচিত ফার্সি ভাষায় কবিতা পুরোটাই ভবিষ্যদ্বাণীমূলক। অদৃশ্যের পর্দা উন্মোচন করে, অনাগত দিনের যনবিকা ফাঁক করে যে রহস্য উদ্ঘাটিত হয় তাকে বলা হয়কাশ্ফ মনের দোদুল্যমান অবস্থায় আল্লাহর প্রতি পূর্ণ মনোসংযোগ করে সঠিক সিদ্ধান্ত চাইলে অর্থাৎইসতিখারাকরলে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সহজ হয়। নিষ্কলুষ অন্তরে যে ভাব আল্লাহর পক্ষ থেকে উদিত হয়, তার নামইলহাম শাহ নেয়ামতুল্লাহ (রহ.) ‘কাশ্ফইলহাম মাধ্যমে প্রাপ্ত এসব অদৃশ্য ইশারা তথা ভবিষ্যবার্তা লাভ করেন। যা তার ঐতিহাসিক সাড়াজাগানো কবিতায় বিবৃত হয়। ইংরেজ আমলে ব্রিটিশ শাসকরা এটি নিষিদ্ধ করে। এর দ্বারা যুগে যুগে মুসলমানেরা উজ্জীবিত হয়েছেন। বর্তমানেও এর আবেদন প্রভাব ভারতবর্ষে সমভাবে কার্যকর
শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ (রহ.) ভবিষ্যদ্বাণীতে বর্ণিত বহু বিষয় সংঘটিত হয়ে গেছে। অল্প কিছু বিষয় সামনে রয়েও গেছে। অতীতে সংঘটিত বিষয়াদির সাথে ভবিষ্যদ্বাণীর অসাধারণ মিল দেখতে পেয়ে, বিশ্ববাসী অবাক। পাশ্চাত্যের অনেক গবেষক শাহ নেয়ামতুল্লাহ (রহ.)-এর কাশ্ফে প্রাপ্ত ইলহামী কবিতা নিয়ে অতীতে যেমন গবেষণা করেছেন, বর্তমানেও এটি নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই। এখানে ৫৮ লাইন বিশিষ্ট কবিতার বিষয়বস্তু, সংঘটিত ঘটনাবলী, ভবিষ্যৎ ইশারা ইত্যাদি নিয়ে সামান্য আলোকপাত করা হল। কবিতার শুরুতে শাহ সাহেব বলেন, ভারতবর্ষের অতীত পেছনে রেখে এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই। মুসলিম বিজয়ের পর প্রথম পর্বের শাসন শেষে দ্বিতীয় পর্বে শুরু হবে মোগল শাসন। ইংরেজরা এসে শাসনের সমাপ্তি ঘটাবে। শাহাবুদ্দিন মুহাম্মদ ঘোরীর (১১৭৫) সময় থেকে সুলতান ইবরাহীম লোদীর (১৫২৬) সময় পর্যন্ত প্রথম পর্ব আর সম্রাট জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর (১৫২৬)-এর পর থেকে (১৭৫৭) পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্ব ধরা হয়েছে। কবিতায় তিনি যেসব কথা বলেছিলেন শত শত বছর পর সেসব বিষয় অত্যাশ্চর্যভাবে বাস্তবে রূপ লাভ করেছে। বাস্তবায়িত ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, . পাঠানদের পতন, . মোগলদের উত্থান, . বিলাসিতা দুঃশাসনের সূচনা . ইংরেজদের অভ্যুদয় . ভারতবাসীর উপর নির্যাতন . পাশ্চাত্য সভ্যতার ক্ষতিকর প্রভাব . বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে রাশিয়া জাপানের যুদ্ধ, অবশেষে চুক্তি স্বাক্ষর . ১৮৯৮ থেকে ১৯০৮ পর্যন্ত ভারতবর্ষে প্লেগের প্রাদুর্ভাব। অন্তত লাখ লোকের প্রাণহানি। . ১৭৭০ সালে ভারতে সংঘটিত মহাদুর্ভিক্ষ। বাংলা অঞ্চলে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। বাংলা সন ১১৭৬- সংঘটিত ঘটনায় অঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয় মানুষ মারা যায়। ইতিহাসে দুর্ভিক্ষ ৭৬-এর মন্বন্তর নামে খ্যাত। ১০. ১৯৪৪ সালে জাপানের টোকিও ইয়াকোহামায় প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। ১১. ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ পর্যন্ত চার বছর ইউরোপে প্রথম মহাযুদ্ধ সংঘটিত। জার্মানী ইংল্যান্ডের মধ্যকার যুদ্ধ। ১২. বিশ্বযুদ্ধে কোটি ৩১ লাখ মানুষের মৃত্যু। ১৩. ১৯১৯ সালের প্যারিসের ভার্সাই শহরে প্রথম মহাযুদ্ধ বন্ধে সন্ধি চুক্তি এবং পরবর্তীতে তা ভেঙ্গে যাওয়া। ১৪. ২১ বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সূচনা প্রথম মহাযুদ্ধের সমাপ্তি ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর। ১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শুরু। ১৫. আণবিক বোমার ব্যবহার। হিরোশিমা নাগাসাকিতে মার্কিনীদের বোমা হামলা। ১৬. রেডিও-টিভি উন্নত যোগাযোগ মাধ্যম আবিষ্কারের কথা। ১৭. ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ইটালী, জার্মানী জাপানের নানা ঘটনা। ১৮. ১৯৪৭ সালের ইংরেজ বিদায় কূটকৌশলপূর্ণ ভারত বিভক্তি। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে তিনটি পাক-ভারত যুদ্ধ। সাম্প্রদায়িক হানাহানি জাতি-গোষ্ঠীগত অশান্তির বহিঃপ্রকাশ। ১৯. পশ্চিমা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সূচনা অপেক্ষাকৃত অযোগ্য লোকদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা। অন্যায়-অশ্লীলতা, দুর্নীতি-পাপাচার নৈরাজ্যের ব্যাপক প্রসার। ২০. বড় একটি মুসলিম অঞ্চলের বিপর্যয়। ২১. মুসলিম নামধারী হিন্দুবান্ধব নেতৃত্ব কায়েম। নামের শুরুতে শেষেবিশিষ্ট ব্যক্তির দ্বারা মুসলিমদের প্রভূত ক্ষতি। ২২. নামের শুরুতেএমন একটি প্রভাবশালী হিন্দুর ইসলামগ্রহণ মুসলমানদের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি। ২৩. মধ্যপ্রাচ্য, আফগানিস্তান ভারতীয় মুসলিমবাহিনীর সম্মিলিত বিজয়াভিযান এবং ভারতবর্ষ হতে অধর্ম, অশ্লীলতা যাবতীয় অপকর্মের অবসান। ২৪. মধ্যপ্রাচ্য থেকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা। ২৫. অত্যাচার, জুলুম, অন্যায়-আগ্রাসন মানবতা বিরোধী বিশ্বসন্ত্রাসের ফলে একটি পরাশক্তির পরিণতি হবে চরম শোচনীয়। প্রভাব প্রতিপত্তি শেষ হয়ে সেটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে পড়বে। সে পরাশক্তিটির নামের আদ্যাক্ষরআলিফ২৬. ভারতবর্ষের মহাপরিবর্তন উগ্র পরাশক্তিটির পতনের পর আসবেন ইমাম মাহদী (.)
ছাব্বিশটি পয়েন্টের মধ্যে ২৩, ২৪, ২৫ ২৬ নিয়ে গবেষণা করলে দেখা যাবে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনাপর্ব এখন চলছে। . ইংল্যান্ড-এর অবস্থা এখন কী . বৃটিশ সাম্রাজ্যের সীমানায় একসময় সূর্য ডুবত না, বর্তমানে এর সীমানা কতটুকু? . মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী কতটুকু জনপ্রিয়? . আরব বসন্তের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন কেমন? . ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের নৈতিক অবস্থান সভ্য পৃথিবীর সমর্থন এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে? . লিবিয়া, তিউনিসিয়া, মিসর, ইয়েমেন, জর্দান, সিরিয়া পরিস্থিতি কতটুকু পাশ্চাত্য-বান্ধব? . ইরাক সিরিয়া জর্দান পরিস্থিতিতে মিত্রশক্তির পথ কতটুকু নিষ্কণ্টক? . সউদী আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, আরব আমিরাত কোন পথে এগুচ্ছে? . ইরান কোন পরিচয়ে উদ্ভাসিত হচ্ছে? ১০. খেলাফতের শেষ নিদর্শন তুরস্ক কোন দিকে মোড় নিচ্ছে? ১১. আফগানিস্তানে আগ্রাসন শেষে ১৩ বছর পর ন্যাটো কী নিয়ে বিদায় হলো? আফগান জাতি কি তার মিশন লক্ষ্যচ্যুত হয়ে গেছে? পাকিস্তানের ভবিষ্যত কী? ভারত কোন্্ পথে? বাংলাদেশ কেমন ভবিষ্যতের মুখোমুখি হবে? প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে দেখলে বিশ্লেষণটি কেমন দাঁড়ায়
কবিতার শেষে শাহ্্ নেয়ামতুল্লাহ (রহ.) বলেছেন, চুপ হয়ে যাও ওহে নেয়ামত, মোটেও এগিয়ো না আর। আল্লাহর রহস্য আর ফাঁস করো না। যতুটুকু বলেছ, তাই প্রেরণা হিসাবে মুসলিমদের জন্য যথেষ্ট হবে। মুসলমানরা বিধর্মীদের শিক্ষা, আদর্শ সংস্কৃতি ছেড়ে দাও। পশ্চিমাদের অন্ধ অনুসরণ বাদ দাও। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহর পথে মানবতার মুক্তির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা-সংগ্রাম-সাধনা চালিয়ে যাও। বিজয় তোমাদের সুনিশ্চিত। সহসাই ইরাক, শাম, তুকিও হিজাজ ভূমি হবে ইমাম মাহদী (.)-এর সৈন্যদের লীলাভূমি। খোরাসানী বাহিনী হবে তাদের বড় সহায়ক। কোন এক হজের সময় কাবা গৃহ তওয়াফরত অবস্থায় মহান ইমামকে মুসলিম জনগণ প্রথম খুঁজে পাবে। মুজাহিদরা সারা পৃথিবী থেকে ছুটে গিয়ে তার অভিযানে যোগ দেবে। বিশ্বব্যাপী সকল শক্তি মুজাহিদদের হাতে পরাজিত হবে
বিশ্বজুড়ে উড্ডীন হবে ইসলামের বিজয় নিশান। বর্তমান সময়ে আল্লাহর পথে দৃঢ়পদ সংগ্রামী মুসলমানরা ইমাম মাহদী (.)-এরই অগ্রবর্তী বাহিনী। যখনই তিনি আবির্ভূত হবেন, সমকালীন সব বিপ্লবী মুসলমান তার পতাকাতলে সমবেত হয়ে বিজয় অর্জনও উদযাপন করবে। বিজয় মুসলমানদেরই হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘ঈমানদারদের সাহায্য করা আমি নিজের উপর অবধারিত করে নিয়েছি।’ ‘তোমরা হীনবল হয়োনা, উদ্বিগ্ন হয়োনা, বিজয় তোমাদেরই হবে, যদি প্রকৃত ঈমানদার হতে পার।খোদাদ্রোহী শক্তির বিরুদ্ধে ঈমানদার মানুষের সংগ্রাম অবশ্যই সফল হবে। মুসলিমরাই বিজয়ী হবে পরীক্ষার সময় শেষ হতে আর বেশি দেরি নেই
সংগৃহীত - দৈনিক ইনকিলাব ( ০২/০১/২০১৫)

দশটি সূরা মুসলমানদের দশটি আপদ -বিপদ হতে রক্ষা করে।


দশটি সূরা মুসলমানদের দশটি আপদ -বিপদ হতে রক্ষা করে   
    
 () সূরা ফতিহা আল্লাহর গজব হতে রক্ষার কারণ হয়
() সূরা ইয়াসীন কিয়ামতের দিন পিপার্সাত হওয়া থেকে রক্ষার মাধ্যম হবে
() সূরা দুখান কিয়ামতের দিনের ভয়াল অবস্থা হতে রক্ষার মাধ্যম হবে
() সূরা ওয়াকিআ  দরিদ্রতা হতে রক্ষার কারণ হয়
() সূরা মূলক কবরের আযাব হতে রক্ষার মাধ্যম হবে
() সূরা কাওসার শত্রুর অনিষ্ট হতে রক্ষার কারণ হয়
() সূরা কাফিরুন মৃত্যুর সময় কুফরী হতে রক্ষার কারণ হয়
() সূরা ইখলাস মুনাফিকী হতে রক্ষার কারণ হয়
() সূরা ফালাক হিংসুকের হিংসার হতে রক্ষার কারণ হয়

(১০) সূরা নাস যাবতীয় ওয়াসাওয়াসা হতে রক্ষার কারণ হয়

মহানবী (সা) বিপদের সময় এই ৩টি দোয়া পাঠ করতে বলেছেন


মহানবী (সা) বিপদের সময় এই ৩টি দোয়া পাঠ করতে বলেছেন
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাকালে বহু বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। বেশ কয়েকবার কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক জুলুম, অন্যায়, অত্যাচার পাড়ি দিয়ে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিপদের সময় মহানবী (সা.) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতেন সেই দোয়াগুলো উম্মতদেরও পাঠ করাতে বলেছেন।
দোয়া ৩টি হলো-
১। সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রা. বলেন, নবীজি সা. দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন :
লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। (দোয়া ইউনূস)
অর্থ : একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী। (তিরমিজি : ৩৫০০)
২। আসমা বিনতে ওমাইর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তুমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মধ্যে পড়বে। সাহাবী বললেন, অবশ্যই শেখাবেন। নবীজি বললেন, দোয়াটি হচ্ছে : ‘আল্লাহু আল্লাহ রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।’
অর্থ : আল্লাহই আল্লাহ আমার প্রতিপালক। আমি তার সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করি না। (আবু দাউদ : ১৫২৫)
৩। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন :
আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওআনতা তাজআলুল হুযনা সাহলান ইযা শিইতা।
অর্থ : ইয়া আল্লাহ, কোনো বিষয় সহজ নয়। হ্যাঁ, যাকে তুমি সহজ করে দাও। যখন তুমি চাও তখন তুমি মুশকিলকে সহজ করে দাও। (ইবনে হিব্বান : ৯৭৪)
[আওয়ার নিউজ ডেস্ক থেকে সংগৃহীত }
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাকালে বহু বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। বেশ কয়েকবার কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক জুলুম, অন্যায়, অত্যাচার পাড়ি দিয়ে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিপদের সময় মহানবী (সা.) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতেন সেই দোয়াগুলো উম্মতদেরও পাঠ করাতে বলেছেন।
দোয়া ৩টি হলো-
১। সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রা. বলেন, নবীজি সা. দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন :
লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। (দোয়া ইউনূস)
অর্থ : একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী। (তিরমিজি : ৩৫০০)
২। আসমা বিনতে ওমাইর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তুমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মধ্যে পড়বে। সাহাবী বললেন, অবশ্যই শেখাবেন। নবীজি বললেন, দোয়াটি হচ্ছে : ‘আল্লাহু আল্লাহ রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।’
অর্থ : আল্লাহই আল্লাহ আমার প্রতিপালক। আমি তার সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করি না। (আবু দাউদ : ১৫২৫)
৩। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন :
আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওআনতা তাজআলুল হুযনা সাহলান ইযা শিইতা।
অর্থ : ইয়া আল্লাহ, কোনো বিষয় সহজ নয়। হ্যাঁ, যাকে তুমি সহজ করে দাও। যখন তুমি চাও তখন তুমি মুশকিলকে সহজ করে দাও। (ইবনে হিব্বান : ৯৭৪)

[আওয়ার নিউজ ডেস্ক থেকে সংগৃহীত }

Monday, October 5, 2015

মসজিদ কি উচ্ছেদ করা যায়

মসজিদ কি উচ্ছেদ করা যায়


স্টাফ রিপোর্টার : সম্প্রতি সরকারী জায়গায় নির্মিত মসজিদ উচ্ছেদ ও স্থানান্তর বিষয়ে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে শোনা গেছে। বাংলাদেশের চার লাখেরও বেশি মসজিদের মধ্যে অনেক মসজিদই সরকারী নানা সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও খাস জমিতে স্থাপিত। এসব মসজিদের বিষয়ে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে শরীয়তের নির্দেশনা কী, এ নিয়ে দেশের শীর্ষ ফতোয়া প্রতিষ্ঠানের ইসলামী ফিকাহবিদদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, মসজিদ কখনই উচ্ছেদ করা যায় না। স্থানান্তর করার ক্ষেত্রেও রয়েছে কঠোর বিধি-নিষেধ। যে স্থানে একবার মসজিদ হয়ে যায় কিয়ামত পর্যন্তই এটি মসজিদ হিসেবেই গণ্য হবে। শরীয়তসম্মত প্রয়োজনে তা স্থানান্তর করা হলেও পূর্ববর্তী জায়গাটি মসজিদ রূপেই সম্মান ও পবিত্রতা সহকারে সুরক্ষিত রাখতে হবে।রাজধানীর খ্যাতনামা ইসলামী আইন গবেষক, মারকাজুল ফিকাইল ইসলামীর পরিচালক আল্লামা মুফতি নূরুল আমিন এ বিষয়ে দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, পবিত্র কোরআনের ভাষায়, তারাই মসজিদ আবাদ করে যারা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাসী। আর যারা মসজিদের কাজে বাধা দেয়, তারা সৃষ্টির নিকৃষ্ট শ্রেণী। নবী করীম (সা.) বলেছেন, গোটা পৃথিবীর সমস্ত জমিনকে আমার জন্য পবিত্র ও মসজিদ স্বরূপ করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং মসজিদ বানানোর ক্ষেত্রে জমিনের পবিত্রতা ও প্রকৃত মালিকানার শর্তসাপেক্ষে কোন বাধা নেই। কোন ব্যক্তির জায়গা অন্যায়ভাবে দখল করে মসজিদ নির্মাণ শরীয়তে অনুমোদিত নয়। মসজিদ হতে হবে ক্রয়কৃত নিষ্কণ্টক বা দানকৃত নির্ঝঞ্ঝাট স্থানে। পূর্ণাঙ্গ মসজিদ হওয়ার জন্য ওয়াকফ বা দানকৃত হওয়া জরুরী।কোন রাষ্ট্রে নাগরিকদের ধর্মীয় কাজকর্ম পালনের জন্য সকল ব্যবস্থা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ইসলামী ব্যবস্থায় নাগরিকদের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদ নির্মাণ করা সরকারের প্রধানতম দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। যদি সরকার তা না করে তবে মুসলিম জনসাধারণের উপর এ দায়িত্ব বর্তায়। বাংলাদেশের প্রায় সব মসজিদই জনসাধারণের উদ্যোগে নির্মিত। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগে ক্রয়কৃত কিংবা দানে পাওয়া জায়গা যেমন রয়েছে সরকারী খাস জমি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী জমিতেও মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদই বৈধ এবং অনুমোদিত। সরকারের উপর প্রদত্ত দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নামাজিরা কিছুটা হলেও আদায় করেছেন বলেই এসব মসজিদ তারা গড়ে তুলেছেন। শরীয়তসম্মত কারণ ছাড়া এ ধরনের মসজিদ স্থানান্তর করা বৈধ হবে না। উচ্ছেদের তো প্রশ্নই ওঠেনা। কোন বৃহত্তর স্বার্থে মসজিদ স্থানান্তর করতে হলে ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে উপযুক্ত স্থানে নতুন মসজিদ নির্মাণ করে দিতে হবে এবং পূর্ববর্তী মসজিদের শরীয়াভিত্তিক আইনগত অবস্থান বিবেচনা করে ওই জায়গাটির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ওয়াকফকৃত মসজিদ হলে ওখানে আর কোনকিছু নির্মাণ করা বৈধ হবে না। মসজিদের মতই এর সুরক্ষা, সম্মান ও পবিত্রতা নিশ্চিত করতে হবে।বাংলাদেশে সড়ক ও জনপথ, রেলওয়ে, নৌ-পরিবহন, বিভিন্ন কর্পোরেশন ইত্যাদির যত জায়গায় সাধারণ জনগণ নামাজ পড়ার জন্য মসজিদ নির্মাণ করেছেন সরকারের কর্তব্য সেসব জায়গা স্থায়ীভাবে নামাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া। উচ্ছেদ করার চিন্তা যৌক্তিক বা শরীয়তসম্মত নয়।একটি কথা স্পষ্ট হওয়া উচিত যে, কোন মসজিদই উচ্ছেদ করা যায় না। যদি সম্পূর্র্ণ অন্যায়ভাবে কোন ব্যক্তির জায়গা দখল করে কেউ মসজিদ নির্মাণ করে তাহলে সে মসজিদ নির্মাণই বৈধ হয়নি। এটি মূল মালিককে ফিরিয়ে দেয়া মসজিদ উচ্ছেদ বলে বিবেচিত হবে না। শরীয়তসম্মত কারণে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ স্থানান্তরের মাসআলাও অত্যন্ত জটিল ও সতর্কতাপূর্ণ। হেলাফেলা করে মসজিদ স্থানান্তর শরীয়তে অনুমোদিত নয়। একবার মসজিদ চালু হলে তা বন্ধ বা উচ্ছেদ করা জায়েজ নয়। জমির মালিক যদি রাষ্ট্র, সরকার বা জনসাধারণ হয় তাহলে এতে মসজিদ নির্মাণে কোন বাধা নেই। কারিগরি কোন বাধা থাকলে তা দূর করে মসজিদকে নিষ্কণ্টক ও নির্বিঘœ করাই সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব। কোন বড় পরিকল্পনা বা জাতীয় কাজে যদি অগত্যা মসজিদ স্থানান্তর করতে হয় তাহলে তা হতে হবে শরীয়া বিশেষজ্ঞ আলেম, মুফতি ও ফিকাহবিদদের পরামর্শ সাপেক্ষে। একবার মসজিদ হয়ে গেলে শরীয়তসম্মত কারণ ছাড়া এর স্থানান্তর জায়েজ নয়। উচ্ছেদ তো কোনক্রমেই বৈধ হতে পারে না।   

Copyright Daily Inqilab

দুনিয়ার জীবন আমলের - আর -আখেরাতের জীবন ফল ভোগের

দুনিয়ার জীবন আমলের - আখেরাতের জীবন ফল ভোগের


পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, যে বিষয়ে তোমাদের জানা নেই, সে বিষয়ে যারা জানে তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে নাও জন্য যে, তোমাদের দুনিয়ার জীবন হলো আমলের জীবন আর আখেরাতের জীবন হলো আমলের ফল উপভোগ করার জীবন তাই যাতে আখেরাতে তোমাদের লাভের জীবন হয়, মুক্তি নাজাতের ব্যবস্থা হয়, সে জন্য দুনিয়াতে তোমাদের সে বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা প্রয়োজন কেননা যে জিনিসটা লাভের, সেটা জ্ঞানের মাধ্যমে সঠিকভাবে জেনে সে অনুযায়ী আমল করলে তবেই লাভ অর্জিত হয় দুনিয়া তো অস্থায়ী, এখানে আমরা সবকিছু দেখতে পারি,
বুঝতে পারি, বিবেচনা করতে পারি এখানেই যখন উল্টা-পাল্টা কিছু করলে লাভের পরিবর্তে ক্ষতি হয়ে যায়, আখেরাতের বিষয়গুলো তো আমাদের চোখের সামনে নেই, বরং আখেরাতের পুরো জীবনটাই আমাদের দৃষ্টিসীমার বাইরে, বিবেচনা এবং অভিজ্ঞতার বাইরে, সে ক্ষেত্রে তো আরও অধিক ভুল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আর ভুল হয়ে গেলে বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে আখেরাতে তাই বলা হচ্ছে -  'যদি তোমরা না জান, তাহলে জ্ঞানীগণকে জিজ্ঞেস কর'
দীনী মাসআলা-মাসায়েলের ব্যাপারে যদি তোমাদের জানা না থাকে, তাহলে যারা জানে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করে জেনে নাও তাহলে জানাও হবে এবং আমল সহি-শুদ্ধ হবে আর সহি-শুদ্ধ অল্প আমল অশুদ্ধ অধিক আমল অপেক্ষা উত্তম
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন : 'আর তুমি উপদেশ দাও, উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে' যারা জানে তারা মাসআলা বয়ান করবে আলোচনা-পর্যালোচনা করবে এতে দুটি লাভ হবে এক নম্বর হলো এই যে, অনেকের মাসআলা জানা থাকে, কিন্তু সেটা কাজে পরিণত করার প্রতি আগ্রহ থাকে না কারণ, মাসআলা জানা থাকলেও সেটার গুরুত্ব সে অনুধাবন করতে পারে না তখন বার বার আলোচনা-পর্যালোচনা করার দ্বারা সেটার গুরুত্ব সে অনুধাবন করতে সক্ষম হয়

সূত্র : দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, লেখক : খতিব, গুলশান সেন্ট্রাল জামে মসজিদ