দুনিয়ার সুখ সুখ না, জান্নাতের সুখই আসল সুখ

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোন কাজটি আল্লাহর নিকট সবচাইতে প্রিয়? তিনি বললেন, ‘ঠিক সময়ে নামায আদায় করা।’ তিনি (আবদুল্লাহ) পুনরায় বললেন, এরপর কোন কাজটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়? নবী (সাঃ) বললেন, ‘পিতামাতার সেবা ও আনুগত্য করা। তিনি আবারও জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কোন কাজটি? জবাবে নবী (সাঃ) বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

দুনিয়া ক্ষনস্থায়ী, নিশ্চই আমিও দুনিয়ায় ক্ষনস্থায়ী

“ তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানুষের(কল্যাণের) জন্য তোমাদেরকে বের করা হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে।” -সূরা আল-ইমরান, আয়াত-১১০

দুনিয়ার দুঃখ দুঃখ না, জাহান্নারের দুঃখ আসল দুঃখ

হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমাকে দেখেছে এবং আমার উপর ঈমান এনেছে তার জন্য তো একবার মোবারকবাদ। আর যে আমাকে দেখে নাই তারপরেও আমার উপর ঈমান এনেছে তাকে বারবার মোবারকবাদ - মুসনাদ আহমাদঃ ৩/১০০

নামাজ বেহেস্তের চাবি

রাসুলে পাক (সা:) বলেছেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমার উম্মতের উপর সর্বপ্রথম নামাজ ফরজ করেছেন এবং কেয়ামতের দিন সবার আগে নামাজের হিসাব নয়া হবে।

কালেমা পড়ি, ঈমান আনি, বলি আমি মুসলিম

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোন কাজটি আল্লাহর নিকট সবচাইতে প্রিয়? তিনি বললেন, ‘ঠিক সময়ে নামায আদায় করা।’ তিনি (আবদুল্লাহ) পুনরায় বললেন, এরপর কোন কাজটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়? নবী (সাঃ) বললেন, ‘পিতামাতার সেবা ও আনুগত্য করা। তিনি আবারও জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কোন কাজটি? জবাবে নবী (সাঃ) বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

Tuesday, May 20, 2014

প্রতি মুহুর্তেই আমি সাঈদীর সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো: রনি

প্রতি মুহুর্তেই আমি সাঈদীর সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো: রনি

(প্রিয়.কম) - মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়েত ইসলামী নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ গোলাম মাওলা বলেছেন, তিনি প্রতিমুহূর্তেই সাঈদীর সঙ্গে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।
মঙ্গলবার সকালে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন। প্রিয়.কম পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু এখানে তুলে ধরা হল:
আমি যখন তাকে প্রথম দেখি তখনো তার নামের সঙ্গে আল্লামা উপাধী সংযুক্ত হয়নি। সেটা ছিল ১৯৭৬ সালের কথা। আমি কেবল তার সুরেলা কন্ঠ এবং দাড়ী টুপির আকৃতির কথা মনে রাখতে পেরেছিলাম। এরপর তাকে দ্বিতীয়বার দেখি ১৯৯৪ সালে চট্রগ্রামের প্যারেড ময়দানে। ব্যবসা উপলক্ষে আমি তখন চট্রগ্রামে ছিলাম বেশ কয়েকদিনের জন্য। সারাদিন প্রচন্ড কাজ। কিন্তু সন্ধে হলেই অখন্ড অবসর। ঐ শহরে আমার পরিচিত জন ছিলো একেবারেই হাতে গোনা। ২/১ দিন বিকেলে গেলাম পতেঙ্গা সৈকতে- তাও আর ভালো লাগছিলো না। হোটেলে বসে থাকতে থাকতে যখন একেবারেই অধৈর্য হয়ে উঠলাম তখন দেখলাম অনেক গুলো লোক দলবেঁধে পাজামা-পাঞ্জাবী ও টুপি পরে মাহফিলে যাচ্ছে। আমিও তাদের সঙ্গী হলাম কোন কিছু জিজ্ঞাসা না করেই। প্রায় ঘন্টা খানেক হাটার পর মাহফিল স্থলে পৌছালাম এবং ওয়ায়েজীনের কন্ঠ শুনে বুঝলাম মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাইদী বক্তব্য দিচ্ছেন। আমি ওয়াজ শুনছিলাম এবং হেটে হেটে প্যারেড ময়দানের চারি পাশে ঘুরে ঘুরে লোকজনের সংখ্যা নিরুপনের চেষ্টা করছিলাম। কত হবে- কেউ বলে পাঁচ লাখ, কেউ বলে দশ লাখ- কেউ কেউ আরো বেশী। এতো বিশাল জন সমাবেশ আমি ইতিপূর্বে যেমন দেখিনি তেমনি আজ অবধিও দেখিনি কেবল তাবলীগ জামাতের মহা সমাবেশ ছাড়া।
ঐদিনের পর থেকে আমি জনাব সাইদীর একজন ভক্ত হয়ে গেলাম। চট্রগ্রামের মাহফিলে আমার দ্বিতীয়বার যাওয়ার সুযোগ হয়নি কিন্তু মতিঝিল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠের বাৎসরিক মাহফিল নিয়মিত শুনেছি। কিন্তু আমার সুযোগ হয়নি তার সামনে দাড়িয়ে বা নিকটে বসে দুদন্ড কথা বলার কিংবা একান্ত কাছ থেকে দেখবার। শেষমেষ সেই সুযোগটি এলো ২০০৪ সালে। আমার এক বন্ধু ফোন করে জানালেন যে সাইদী সাহেব রাতে তার বাসায় দাওয়াত খাবেন। তিনি আর কাউকেই দাওয়াত দেননি কেবল আমাকে ছাড়া। আমি আগ্রহ ভরে সেরাতে বন্ধুর নিমন্ত্রন গ্রহন করেছিলাম। সাইদী সাহেব এলেন এবং আমরা পরিচিত হলাম। তিনি যখন জানলেন যে আমি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রার্থী তখন ভারী উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং আগ্রহ নিয়ে আমার মুখের দিকে তাকালেন এবং মুচকী হেসে বললেন- আওয়ামীলীগে এতো ভদ্রলোক আছেন তা আপনাকে এবং ফারুক খানকে না দেখলে বোঝা যাবে না। আমি মূলত তার ওয়াজ মাহফিল নিয়েই কিছু কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আবেগের আতিসয্যে পারিনি। কেবল জিজ্ঞাস করেছিলাম- শেখ হাসিনা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি? তিনি বলেছিলেন- আমরা তাকে শ্রদ্ধা করি বঙ্গবন্ধু কন্যা হিসেবে। তিনি যদি জানতেন-তার প্রতিদ্বন্দীরা তাকে কিভাবে শ্রদ্ধা করে-কেনো করে এবং কখন করে তাহলে তার রাজনৈতিক দর্শন আরো মর্যাদা পেতো।
এরপর আর আমার সঙ্গে সাইদী সাহেবের দেখাও হয়নি এবং কথাও হয়নি। উনি অবশ্য তার বাসায় বেড়াতে যাওয়ার দাওয়াত দিয়েছিলেন। সেটাও হয়ে উঠেনি ব্যস্ততার কারনে। কিন্তু প্রতি মুহুর্তেই আমি তার সঙ্গে ছিলাম এবং এখনো আছি - হয়তো আল্লাহ চাইলে ভবিষ্যতেও থাকবো। তার সঙ্গে থাকার মূল ভিত্তিটি হলো ওয়ায়েজীন হিসাবে তার বক্তব্য, সুরেলা আওয়াজ, ক্ষুরধার যুক্তি, বর্নাঢ্য উপস্থাপনা, সাবলীল এবং সহজবোধ্য ভাষার প্রয়োগ এবং প্রচন্ড মোহময়তার সুতীব্র চৌম্বক শক্তিতে লক্ষ লক্ষ জনতাকে মাহফিলের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে আকৃষ্ট করে রাখার প্রবল ক্ষমতা। প্রথম জীবনে আমি দাদাকে নিয়ে তার মাহফিলে গিয়েছি। তারপর আব্বাকে নিয়ে-সবশেষে গিয়েছি নিজের পুত্র সন্তানকে নিয়ে। যখন প্রথম গিয়েছিলাম তখন ছিলাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। যখন সর্বশেষ গিয়েছিলাম তখন যৌবন পেরিয়ে পৌঢ়ত্বে ঢোকার ভয় মনের মধ্যে প্রবেশ করেছিলো- এবং এখন আমার কথা-বক্তব্য শোনার জন্যও হাজার হাজার মানুষের সমাগম হতো। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হলো- আমার প্রথম দর্শন এবং শেষ দর্শনের মধ্যকার প্রায় ৩০ টি বছরের ব্যবধানে একবারও জনাব সাইদীর বক্তব্য পুরোনো, অ-আকর্ষনীয়, বিরক্তিকর কিংবা একঘেয়ে বলে মনে হয়নি। যুগ যেমন টেপ রেকর্ডার থেকে সিডি-ভিসিডি ও ডিভিডিতে রুপান্তরিত হয়ে ওয়েব বেইজড হয়ে গিয়েছে তেমনি সাইদী সাহেবও জমিনের মালিক আল্লাহর বানী এবং তার হাবীবের বানীকে আধুনিক মানুষের মনের উপযোগী করে উপস্থাপন করেছেন। ফলে গত প্রায় ৪০টি বছর ধরে বাংলা ভাষাভাষী তাবৎ দুনিয়ার মুসলমান নরনারীর নিকট তিনি রুপান্তরিত হয়েছেন এক জীবন্ত কিংবদন্তীরুপে। মানুষের বুভূক্ষ আধ্যাত্মিকতার জগতে তিনি এক মুকুটহীন বাদশা এবং মনোজগতের আলোকিত স্বপ্ন পুরুষ।
আমার ক্ষেত্রে কিন্তু জনাব সাইদীর বিষয়টি এরুপ হবার কথা ছিলো না। কারন শৈশব থেকেই আমি ধর্মকর্ম করা একজন রক্ষনশীল মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠছিলাম। কলেজ জীবনে এসে সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির একজন কট্ররপন্থী কর্মী হিসেবে ইসলাম পন্থী দলগুলো সম্পর্কে ভালো ধারনা পোষন করতাম না। এরপর আমি দেখা পাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতীদের। এদের দু’জন ইমাম-খাজা আবু তাহের এবং মাওলানা আব্দুল জলিলের পেছনে প্রায় দেড় যুগ ধরে জুমার নামাজ পড়েছি। এখানে উল্লেখ্য যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত গত নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে সমর্থন দিয়েছে এবং তারা জামাত শিবিরকে খুবই ঘৃনা করে মনে হয় অমুসলিমদের চাইতেই বেশি। এমন একটি পরিবেশে থেকে সাইদীর গুনমুগ্ধ ভক্ত হওয়া খুবই জটিল এবং কঠিন একটি বিষয়। প্রথমে মনে হতো - আমি বোধ হয় একা। পরে দেখলাম আওয়ামীলীগ করে এমন লোকতো বটেই-অনেক হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টানরাও সাইদী সাহেবের জন্য পাগল। অনেক হিন্দুর বাড়ী-গাড়ীতে আমি জনাব সাহদীর ওয়াজের ক্যাসেট কিংবা সিডি দেখেছি।
এই মুহুর্তে জনাব সাইদী কারারুদ্ধ। তিনি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত। আপীল আদালত হয়তো খুব তাড়াতাড়ি এবং যেকোন সময় রায় দিয়ে দিতে পারে। কি রায় হয়েছে কিংবা কি রায় হবে তা নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই। তবে মনোবেদনাতো অবশ্যই আছে। মনে প্রশ্ন জাগে- এমনটি কেনো হলো। যে মানুষটি ৪০টি বছর ধরে সারা দুনিয়ার আনাচে কানাচে বাঙালীদের আস্তানায় গিয়ে কোরআন শুনিয়ে এলো। তার কন্ঠের মোহময় জাদুতে আকৃষ্ট হয়ে মানুষজন সুপথ পেলো কিংবা যার যৌক্তিক আহবানে লক্ষ লক্ষ মানুষ দ্বীনের পথে পাবন্দ হলো তিনি আজ কেনই বা এতোবড় মুছিবতে পড়লেন! আমরা তেমন কিছু জানিনা- আল্লাহ পাকই ভালো জানেন। তবে সাইদী বিরোধীরা যেসব কুৎসা রটনা করছে তা এদেশের সাধারন মানুষ বিশ্বাস করেনা। সাধারন মানুষের তো কোন ক্ষমতা নেই। তারা কেবল অন্তর থেকে কাউকে ঘৃনা করতে পারে এবং আল্লাহর দরবারে ঘৃনিত ব্যক্তির জন্য শাস্তি কামনা করতে পারে। অন্যদিকে ভালোবাসার মানুষটির জন্য দোয়া করতে পারে। সেই দিক বিবেচনায়-জনাব সাইদী এদেশের লক্ষ কোটি মানুষের মনের আকুতি মিশ্রিত দোয়া যে পাচ্ছেন তা আমি বলতে পারি নির্দ্বিধায়।
এবার আমি বলছি-ভিন্ন মতের, ভিন্ন ধারায় থেকেও কেনো আমি- সাইদীর অনুরক্ত হলাম। কারন একটাই-আমার আত্মার খোরাক মেলে তার ওয়াজের মাধ্যমে। আজও আমি সময় পেলে ইউটিউবে গিয়ে যেমন ক্বারী আব্দুল বাসিত, শেখ মোহাম্মদ জিবরীল, শেখ মোহাম্মদ খলিল আল হুসাইরি, আব্দুর রহমান সুদাইস, শেখ সুরীইয়াম, ক্বারী সাদাকাত, মোঃ রিফাত, আল আফাসী প্রমুখের সুললিত কন্ঠের কোরআন তেলাওয়াত শুনি তেমনি জনাব দেলোয়ার হোসাইন সাইদীর ওয়াজও শুনি। অবাক করা বিষয় হলো- সাইদী সাহেবের ওয়াজের একেকটি ভিডিও ১৪/১৫ লাখ লোক পর্যন্ত দেখেছে। কোন বাঙালী শিল্পী, কিংবা বক্তা কিংবা ওয়ায়েজীনের ভিডিও এতো মানুষ আজ অবধি দেখেনি। আমি এসব ভিডিও বা অডিও ক্লিপ শুনি এবং আত্মায় প্রশান্তি অনুভব করি। আমি লক্ষ করেছি আমাদের দেশের বেশির ভাগ সাইদী বিরোধী লোকজন না বুঝে এবং না জেনেই সাইদীর সমালোচনা করে। আবার উল্টোটাও আছে-কোন রকম ভালমন্দ বিচার বিবেচনা না করেই অন্ধভাবে সাইদী সাহেবকে সমর্থন করেন। আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন রকম। আমি ব্যক্তি সাইদী সম্পর্কে তেমন কিছু জানিনা- বা জানার প্রয়োজনও মনে করিনি। কিন্তু পবিত্র আল কোরআনের তাফসির কারক অর্থাৎ মুফাচ্ছিরে কোরআন হযরত মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাইদী সম্পর্কে বেশ ভালো ভাবে জানি। তার বক্তব্যেও কোন যায়গায় কতটুকু সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং কোথায় কোথায় অনন্য সাধারন চমৎকারীত্ব রয়েছে তা যেমন লক্ষ করেছি তেমনি আরবী উচ্চারনের ভালো মন্দের দিকেও খেয়াল করেছি। আরবী ব্যাকরন-কিংবা হাদীসের ব্যাখ্যা অথবা তাসাউফের আলোচনায় কেউ কেউ জনাব সাইদীর পান্ডিত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন কিন্তু সামগ্রীকভাবে ইসলামের খেদমতে তার ধারের কাছে দাঁড়াতে পারেন এমন আলেম বাংলাদেশে একজনও নেই।
সাইদীর পাশে কোন আলেম দাঁড়াতে পারবেন না- এতোবড় কথা আমি কিভাবে বললাম? এ ব্যাপারে বিস্তারিত বললেই সম্মানীত পাঠক বিষয়টি স্পষ্ট বুঝতে পারবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে এও বুঝতে পারবেন-কেনো আমার মতো লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিন্ন ধারার রাজনীতির ধারক বাহক হবার পরও জনাব সাইদীকে পছন্দ করেন। পাক ভারত উপমহাদেশের ইসলাম ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা, ধ্যান ধারনা তাবৎ দুনিয়া থেকে আলাদা। বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তানের মুসলমানগনের একটি বিরাট অংশ বিভিন্ন পীর, দরবেশ, আওলিয়া কিংবা মাজার কেন্দ্রীক ঐক্য গড়ে তুলে ধর্মকর্ম পালন করে থাকে। এসব পীর-ফকির-দরবেশ-দরগা এবং মাজারে ফি বছর ভক্ত বৃন্দ জমায়েত হয়ে নিজ নিজ রীতি অনুযায়ী নামাজ, কালাম, জিকির ফিকির, নাচগান এবং খানা পিনা করে থাকেন। কেউ এই জমায়েতকে বলেন- ইছালে ছওয়াব, কেউ বলেন ওরশ মোবারক আবার কেউ কেউ বলেন তাবলীগ বা বিশ্ব জাকের সমাবেশ। এ সব অনুষ্ঠান ২/৩ দিন ব্যাপি হয়। অনুষ্ঠান স্থলের আশে পাশে বিরাট মেলাও বসে যায়। ধর্মকর্মের পাশা পাশি মানুষ দুনিয়াদারীর কর্মকান্ডও করে থাকে। পীরেরা কিংবা দরগার খাদেমরা এ সময় ভক্তকুলের নিকট থেকে নজরানা গ্রহন করেন যা তাদের সারা বছরের জীবন জীবিকার একমাত্র সংস্থান বলে গন্য হয়। আমার গ্রামের বাড়ী ফরিদপুরের সদরপুরে ছোট বড় ১০/১২ জন দরবার ভিত্তিক পীর মোর্শেদ দেখে আসছি। এদের মধ্যে আকার আকৃতি এবং ভক্তকুলের সংখ্যাধিক্যে আটরশি এবং চন্দ্রপাড়ার পীর সাহেবদের নাম ডাক সারা দেশে থাকলেও স্থানীয় হিসেবে আমাদের অভিজ্ঞতা অতো ভালো না।
বড় হয়ে যখন পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশে গেলাম তখন বাংলাদেশের মতো এরুপ কান্ড কারখানা কোথাও দেখলাম না। যাহোক- বহু পীরের কাছে গেলাম। মনে অনেক প্রশ্ন। অনেক কিছু জানতে চাই। কিন্তু পীরেরা কথা বলেন না। তাদের সামনে হাটু গেড়ে বসি- হাত জোড় করে থাকি এবং নজরানা দেই। পীর সাহেবরা জোরে জোরে ফুঁ দিয়ে দেন। পীর বাবার ফু মাথায় নিয়ে বাইরে আসি কিন্তু অন্তর ঠান্ডা হয় না। বরং নজরানার টাকা গুলোর জন্য এক ধরনের মায়া মায়া ভাবের জন্য মনটাই খারাপ হয়ে যেতো। এরপর আমি যেতাম বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে। বক্তা কান্নার ভান করে বিকট গলায় ভয়ঙ্কর আওয়াজ তুলে এমন সব মারেফতি কিচ্ছা কাহিনী শুরু করতো যা শুনলে রুচিবান লোকের বমি বমি চলে আসতো। চিন্তাশীল মানুষ হলে ইসলাম সম্পর্কেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলতো। এই ঘটনার পর আমি ওসব পীর ফকিরের দরবার এবং গলাবাজ ওয়ায়েজীনদের মাহফিলে যাওয়া বন্ধ করে দেই। কোরআন- হাদিস পড়ার পাশা পাশি বিখ্যাত অলি আল্লাহগনের লিখিত বই পড়ার পর ধর্ম কর্মে এক ধরনের প্রশান্তি অনুভব করতে থাকি। অন্যান্য ধর্মের সঙ্গে ইসলামের তুলনা এবং আমাদের ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব বোঝার জন্য আরো কিছু বই পত্র পড়ে নিজের জ্ঞানও বিশ্বাসকে ঝালাই করে নিলাম। কিন্তু সমস্যা হলো-ধর্মমতে সব কিছু করতে পারছিলাম না।
আমি প্রান পনে চাইতাম বাবা মাকে শ্রদ্ধা এবং আমার জীবনের সব ভালো জিনিসগুলো দিয়ে তাদেরকে সেবা করে আল্লাহ পাকের নৈকট্য হাসিল করার জন্য। আমি এও চাইতাম যে- আমার বহু কষ্টের উপার্জনের একটি অংশ ভাইবোন এবং দরিদ্র আত্মীয় স্বজনের মধ্যে বিলি করে দেই। গোপনে অসহায় লোকজনকে দান খয়রাত করি এবং জমিনে মাথা নীচু করে বিনয় সহকারে চলা ফেরা করি। কিন্তু কিসের জন্যে জানিনা-কৃপনতা আমাকে ভর করে বসলো। বিনয়ের পরিবর্তে নিজের অর্থ, বিত্ত, জ্ঞান গরিমা, চেহারা সুরুত এবং বংশ মর্যাদার জন্য রীতিমতো গর্ব বা অহংকার করা শুরু করলাম। ফলে আমার আপনজনের অনেকের সঙ্গেই আমার দুরত্ব সৃষ্টি হয়ে গেলো। ঠিক এই সময়ে অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে আমি সাইদী সাহেবের মাহফিলে গেলাম। তিনি সেদিন সুরা ফাতিহার তাফসীর করছিলেন। তিনি বলছিলেন-রাহ্মান বা রহমান নামের মাহাত্ম সম্পর্কে। প্রথমে পুরো সুরাটি তেলাওয়াত করলেন। তারপর বর্ননা করলেন সুরাটির গুরুত্ব। এরপর চলে গেলেন শাব্দিক অর্থের ব্যাখ্যায়। আলহামদু লিল্লাহ, রব্বুল, আলামিন-এই তিনটি শব্দের মধ্যে রব শব্দের মর্মবানী এবং মর্মার্থ শুনে আমি পাগল হবার উপক্রম হলাম। এরপর তিনি যখন আর রহমান শব্দ নিয়ে তাফসীর শুরু করলেন তখন সাইদী সাহেবের গলার আওয়াজ ছাড়া আমি আর কিছু শুনতে কিংবা দেখতে পাচ্ছিলাম না। চোখ বন্ধ করে আমার মালিকের বিশালত্ব তার রব নামের ব্যপকতা এবং রহমান নামের স্বার্থকতার আলোকে নিজের জীবনের সীমাহীন ব্যর্থতা আর অপূর্নতার সন্ধান করছিলাম। মনের কালিমা দুর হয়ে সত্য ও শান্তির সুবাতাস কিসের যেনো এক সুবাস দিয়ে আমায় মোহিত করে তুলছিলো। আমার চোখের পানির অবারিত ঝর্নাধারা আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো আমার মালিকের দিকে। আমি সেদিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম এবং মনে মনে প্রতিজ্ঞা করছিলাম-বাকীটা জীবন কল্যান, ন্যায় নিষ্ঠতা আর আল্লাহর প্রেমে মত্ত হয়ে কাটিয়ে দেবো। মাহফিল শেষে আমি হোটেলে ফিরে এলাম এবং কয়েকদিন পর ঢাকায় একটি ক্যাসেটের দোকানে গিয়ে কিনলাম-পিতামাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য, মেরাজের গুরুত্ব, স্বামী-স্ত্রীর মহব্বত, হুজুর (সঃ) এর জীবনী, সময়ের গুরুত্ব, ইত্যাদি বিষয়ে জনাব দেলোয়ার হোসাইন সাইদীর ওয়াজের ক্যাসেট।
প্রতিদিন ফজরের নামাজ অন্তে আমি ক্যাসেট গুলো শুনতাম এবং আমার স্ত্রী ও সন্তানকে শুনাতাম। আমার শিশু সন্তানটি তখন মাত্র স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। ছেলে আমার ক্ষনে ক্ষনে জায়নামাজ নিয়ে বসে পড়তো এবং নিজের ছোটখাটো চাহিদার কথা আল্লাহর নিকট বলতো। আর প্রার্থনা করতো- হে আল্লাহ তুমি আমাকে এবং আমার বাবাকে ওলি আল্লাহ বানিয়ে দাও। দুরে দাঁড়িয়ে আমি ছেলের মোনাজাত শুনতাম এবং চোখের পানিতে বুক ভাসাতাম। এর কিছুদিন পর আব্বা এলেন আমার বাসায় বেড়াতে। আমি আব্বাকে শোনানোর জন্য সাইদী সাহেবের পিতামাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সংক্রান্ত ক্যাসেটটি ছেড়ে দিলাম। বাপবেটা এক সঙ্গে টেপ রেকর্ডারের সামনে দাঁড়িয়ে শুনলাম। দু’জনেই কাঁদছিলাম- হয়তো আমার আব্বা স্মরন করছিলেন তার পিতামাতাকে আর আমি স্মরন করছিলাম আমার জনক জননীকে। আমি আব্বার দিকে অশ্র“ভেজা চোখে তাকালাম-মনে হলো-আহা! এইতো আমার জন্মদাতা। কত কষ্ট করে আমাকে লালন করেছেন! বড় করেছেন! আমি অবশ্যই পিতামাতার অবাধ্য হবোনা। আমার মনে স্বাদ জাগলো- আব্বাকে সেবা করার জন্য। ইচ্ছে হলো- তাকে ভালোমন্দ কিছু খাওয়াই।
বাজারে গেলাম। আব্বার পছন্দের তরি তরকারী মাছ মাংস কিনলাম। স্ত্রীকে বললাম রান্না করো। আস্ত একটি মুরগী রোস্ট করো। আমার আব্বা সেটা খাবেন আর আমি বসে বসে দেখবো। আরেকদিন মনে হলো আস্ত একটি ইলিশ মাছ কোপ্তা বানিয়ে আব্বার প্লেটে দেই। আমার স্ত্রীর সহযোগীতায় যখন কাজ গুলো করলাম তখন আমার সঙ্গে আব্বার কেমন যেনো একটি রুহানী বা আত্মিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে গেলো। আর তখন থেকেই মনে হতে থাকলো- আমার ধন সম্পদ, শিক্ষা-দীক্ষা সব কিছুর মালিকই আমার পিতা। আমি এরপর থেকে কেবল আব্বার হুকুমের গোলাম হয়ে বেঁচে থাকার মধ্যেই স্বার্থকতা খুঁেজ পেলাম। এর কয়েক বছর পর আব্বা হঠাৎ স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে গেলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঐ রকমই ছিলেন। প্রায় ১২ বছর প্যারালাইজড পিতাকে সেবা করতে গিয়ে এক মুহুর্তের জন্যও বিরক্ত হইনি। অফিসে আসার সময় সালাম করে আসতাম। আবার বাসায় ফিরে আব্বার মুখ না দেখে অন্য কারো দিকে তাকাতাম না। অসুস্থ আব্বা প্রায়ই বলতেন- আমার ছেলে- আমার হাজার তারার এক চাঁদ। আজও আব্বার কথা মনে হলে নিজের অজান্তে যেমন চোখের পানি চলে আসে তেমনি মনের মধ্যে বাজতে থাকে সাইদী সাহেবের ওয়াজের মর্মবানীগুলো।
মহান আল্লাহ পাক সব কিছু দেখেন এবং সব কিছু জানেন বলেই-তার উপাধী সামিউন এবং বাছিরুন। নিশ্চয়ই তিনি বেখবর নন-২০১৪ সালের বাংলাদেশ সম্পর্কে। সাইদী ভক্তরা হয়তো কোন কিছুই জানেন না দুনিয়ার আদালত সম্পর্কে। কিন্তু আমার মতো লক্ষকোটি মানুষ যারা- সাইদী সাহেবের ওয়াজের মাধ্যমে আত্মার খোরাক পেয়ে জীবন ধারা বদলাতে পেরেছে এবং বিশ্বজাহানের রবের নিকট আত্মসমর্পন করতে শিখেছে তারা হয়তো ধরে নিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাইদী সাহেবের হয়তো ইমতেহান অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হচ্ছে। কিন্তু ইমতেহানের সময় মানুষের জন্য বড় কর্তব্য হলো আল্লাহ পাকের ফায়সালার প্রতি খউফ ও রিজ্জা সহকারে সন্তুষ্ট থাকা।
আমি আজকের লেখার প্রান্ত সীমায় চলে এসেছি। সাইদী সাহেব সম্পর্কে বলতে গেলে শুধু এইটুকু বলেই শুরু করা যায়-তিনি মহান আল্লাহ পাকের অপূর্ব সৃষ্টি। ইসলামের ১৪শ’ বছরের ইতিহাসে আমি এমন কোন মুফাস্সির কিংবা মুহাদ্দিসের নাম শুনিনি যার বক্তব্য সোনার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ একটি মাহফিলে হাজির হয়ে অসাধারণ নীরবতা নিয়ে কয়েক ঘন্টা ধরে কোরআন এবং হাদিসের মর্মবানী শুনেছে। একবিংশ শতাব্দীর অস্থির সমাজে কোন একক ভাষা ভাষী জাতি গোষ্ঠীর এমন কোন ধর্মীয় নেতা নেই যার বক্তব্য জনাব সাইদী সাহেবের চেয়ে বেশী সংখ্যক মানুষ শোনে এবং অনুসরন করে। পবিত্র কোরআনকে যারা আল্লাহর গ্রন্থ বলে মানেন এবং বিশ্বাস করেন-তারা জনাব সাইদীর গত চল্লিশ বছরের কোরআনী খেদমতকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন! আমার মনে হয় কোরআনের মালিকই উত্তম ফয়সালাকারী। বিশ্ব রবের ফয়সালাতো নতুন এবং অদ্ভূত নয় তার সকল সিদ্ধান্তই পূর্ব ঘোষিত। আমরা যারা আল্লাহকে রেখে অন্যকে মান্য করি বা ওসিলা করি তাদের সম্পর্কে কোরআন বলছে-”ইয়াবতাগুনা রব্বিহিমুল ওসিলা”- অর্থাৎ তোমরা যাদেরকে ওসিলা হিসেবে মান্য কর- তারাইতো বিশ্ব রবের ওসিলা করে থাকে। আজ যারা জমিনের বুকে উদ্ধত আচরন এবং অহংকার করে বেড়ায় এবং জমিনে অবিচার এবং অনাচার করে বেড়ায় তাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাকের সতর্ক বানী যিনি দরাজ গলায় বাংলার আনাচে কানাচে পৌছে দিয়েছেন সেই ব্যক্তিটি যদি মজলুম হয়ে পড়েন তবে তার মালিক তাকে কিভাবে সান্তনা দিবেন সে কথাও কোরআনে বলা আছে বহু যায়গায়-বহুবার। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের-আমরা জেনেও না জানার ভান করি কিংবা দেখেও না দেখার ভান করি। ফলে-সবশেষে-আল্লাহর পক্ষ থেকে যখন ফয়সালা এসে পড়ে তখন না পালাবার কোন পথ খুঁজে পাই- না ভাগবার কোন রাস্তার সন্ধান লাভ করতে পারি!
সূত্র - গোলাম মাওলা রনি, প্রিয়। 

Tuesday, May 6, 2014

নবুওয়াতের নমুনায় খিলাফতই - মুসলিমদের কল্যানের একমাত্র পথ -

নবুওয়াতের নমুনায় খিলাফতই : কল্যাণের একমাত্র পথ 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি রাব্বুল আলামীন। দুরুদ ও সালাম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি, তাঁর পরিবারবর্গ (রা), সাহাবায়ে কিরাম (রা) ও সালেহীন (র)-গণের প্রতি। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দাহ ও রাসূল।
পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য : আল্লাহ তা’য়ালা মানব জাতিকে দুনিয়ায় তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানব জাতি সৃষ্টির সূচনা লগ্নে ফিরিশতাদের সংগে আলোচনাকালে তিনি ঘোষণা করেন : (স্মরণ করুন!) যখন আপনার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন, নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে খলিফা সৃষ্টি করছি...। (সুরা বাকারাহ : ৩০)
খিলাফত : পৃথিবীতে আল্লাহর খিলাফত হল পার্থিব বিষয়ে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব এবং দুনিয়ার সমগ্র মাখলুকের উপর মানব জাতির শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা ও কর্তৃত্ব। আল্লাহর খলিফা হিসাবে মানব জাতির দায়িত্ব হল আল্লাহর বিধান মোতাবেক সব কিছু পরিচালনা করা, নিজের মতে নয়, যা মূলত ইবাদতেরই অংশ। আদম (আ)-কে সৃষ্টির পর আল্লাহর হুকুমে ফিরিশতাদের সাথে সমগ্র মাখলুক হযরত আদম (আ)-কে সিজদা (বশ্যতা স্বীকার) করে মানব জাতির শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা ও কর্তৃত্ব (খিলাফত)- এর স্বীকৃতি প্রদান করে। আল্লাহ বলেন : (স্মরণ করুন!) যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, তোমরা আদমকে সিজদা কর, এরপর ইবলিস ছাড়া তারা সকলেই সিজদা করল। ইবলিস অবাধ্য হল, অহঙ্কার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।- (বাকারাহ : ৩৪)
ইবাদাত : পৃথিবীতে মানব জাতির একমাত্র কাজ হল- সকল প্রকার তাগুতকে অমান্য করে কেবলমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করা এবং তার সাথে কোন কিছু শরীক না করা। আল্লাহ তা’য়ালার সন্তোষ অর্জনের লক্ষ্যে মানব জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর বিধান ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছুন্নাহ মোতাবেক অতিবাহিত করাকে ইবাদাত বলা হয়। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন :
- আমি জ্বীন ও মানব জাতিকে কেবলমাত্র আমার ইবাদাতের জন্যই সৃষ্টি করেছি (সূরা যারিয়াত : ৫৬)। গোলামের নিজের কোন মত বা পছন্দ থাকে না, বরং তার প্রভুর মত ও পছন্দই গোলামের কাজ- এটাই ইবাদাতের মূল শিক্ষা। সুতরাং দুনিয়ার বুকে মানব জাতির একমাত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য হল- খিলাফাতের মর্যাদায় মহান প্রভু আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত।
খিলাফত ও ইবাদতের সূচনা : খিলাফত ও ইবাদতের মহান পরিকল্পনায় আল্লাহ তা’য়ালা মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম আলাইহিস্সাল্লাম এবং তার সঙ্গী হিসাবে হযরত হাওয়া আলাইহাস্সাল্লামকে সৃষ্টি করেন। উভয়কেই জান্নাতে বসবাসের নির্দেশ দেন। অতঃপর একদা হযরত আদম (আ)- এর সাথে তার বংশধর সমগ্র মানব জাতির রূহকে একত্রিত করে তাদের নিকট আল্লাহ তা›য়ালা তার প্রভুত্বের স্বীকৃতি আদায় করেন। আল্লাহ তা›য়ালা বলেন : স্মরণ করুন! যখন আপনার প্রতিপালক আদম সন্তানের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করলেন এবং তাদের নিকট থেকে তাদের নিজেদের সম্পর্কে সাক্ষ্য গ্রহণ করলেন এবং বললেন : আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলল : হ্যাঁ, (অবশ্যই আপনি আমাদের প্রতিপালক) এবং আমরা সাক্ষী রইলাম। এই স্বীকারোক্তি ও সাক্ষ্য এ কারণে যে, কিয়ামতের দিন যেন তোমরা বলতে না পার- ‘আমরা তো এ ব্যাপারে কিছু জানতাম না।’ (সূরা আ’রাফ : ১৭২)
দুনিয়ায় প্রেরণের পূর্বে আল্লাহ তা›য়ালা হযরত আদম (আ)-কে সব কিছু শিক্ষা দেন। শয়তান তাদের বংশধরদেরকে কীভাবে বিপথগামী করতে পারে জান্নাতের মাঝে উভয়কে তার বাস্তব প্রশিক্ষণ দেন। আল্লাহ তা›য়ালা বলেন : (১২০) এরপর শয়তান তাকে মন্দ পরামর্শ দিল। সে বলল : হে আদম! আমি কি আপনাকে চিরস্থায়ী জীবনদাতা গাছের এবং অনন্ত রাজ্যের সন্ধান দেব? (১২১) এরপর আদম ও হাওয়া সেই গাছের ফল খেয়ে ফেলল। তখন তাদের গোপন অঙ্গ তাদের পরস্পরের নিকট প্রকাশিত হয়ে পড়ল। তারা জান্নাতের গাছের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে ঢেকে ফেলতে লাগল। আদম তার পভুর হুকুম ভুলে গেল, ফলে সে ভুলের মধ্যে পড়ে গেল। -(সূরা ত্ব-হা : ১২০-১২১)
অতঃপর হযরত আদম (আ)-কে নবুওয়াত ও হিদায়াত প্রদান করে দুনিয়ায় তাঁর খলিফা হিসাবে তাঁরই গোলামী করার জন্য পাঠালেন। তিনি বলেন : (১২২) এরপর তার প্রভু তাকে (আদম) নবী হিসেবে মনোনীত করলেন এবং তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করলেন। (১২৩) তিনি বললেন : তোমরা (মানব এবং শয়তান) উভয়ে একসাথে পরস্পরের শত্রু হিসাবে জান্নাত থেকে নেমে যাও পরে আমার নিকট থেকে তোমাদের কাছে সঠিক পথের কোন নির্দেশনা আসলে যে আমার পথ অনুসরণ করবে সে বিপথগামী হবে না এবং কোন দুঃখ-কষ্টও পাবে না। (১২৪) আর যে আমার স্মরণে বিমুখ থাকবে, তার জীবন-জীবিকা সংকুচিত করা হবে আর হাশরের দিন আমি তাকে অন্ধ করে উঠাবো। (১২৫) সে বলবে: হে আমার প্রভু! আমাকে কেন অন্ধ করে উঠালেন? আমি তো দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ছিলাম! (১২৬) তিনি বলবেন : ‘আমার আয়াতসমূহ তোমার কাছে এসেছিল, যেভাবে তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে সেভাবেই আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হয়েছে। (১২৭) যে বাড়াবাড়ি করে ও তার প্রভুর আয়াতসমূহে ঈমান আনে না, আমি এভাবেই তার প্রতিফল দেই। আর আখিরাতের শাস্তি অত্যন্ত কঠিন এবং চিরস্থায়ী। -(সূরা ত্ব-হা : ১২২-১২৬)
মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থতার পরিণাম : দুনিয়ার বুকে মানুষের মধ্যে যারা তাদের সৃষ্টি ও দুনিয়ায় প্রেরণের উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে তারা মনুষত্ব্যহীন। তাদের নিকৃষ্ট পাশবিকতার কারণে আল্লাহ তাদেরকে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট বলে ঘোষণা করেছেন, তাদের পরিণতি হল জাহান্নাম। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তা›য়ালা বলেন : আর আমি বহু জ্বীন এবং মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তারা তা দিয়ে বোঝার চেষ্টা করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখার চেষ্টা করে না, তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনার চেষ্টা করে না। তারা পশুর মত অথবা পশুর চেয়েও বেশি পথভ্রষ্ট। বস্তুত তারাই উদাসীন। - (সূরা আরাফ : ১৭৯)
নবুওয়াতী মিশনের সূচনা ও বিরোধিতার পরিণাম :
নবুওয়াতী মিশনের সূচনা : হযরত আদম আলাইহিস্সাল্লাম দুনিয়ার বুকে আল্লাহ তা’য়ালার সর্বোত্তম সৃষ্টি, আল্লাহর বান্দা, আল্লাহর খলিফা এবং মানব জাতির আদি পিতা। আল্লাহ তা’য়ালা হযরত আদম (আ) এর বংশধর ভবিষ্যৎ মানবম-লীর জন্য তাকে সর্বপ্রথম নবী হিসাবে মনোনীত করেন। তিনি বলেন : এরপর তার প্রভু তাকে (আদম) নবী হিসেবে মনোনীত করলেন এবং তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করলেন। (সূরা ত্ব-হা : ১২২)
নবুওয়াতী মিশনের কেন্দ্র হল মাসজিদ : দুনিয়ায় এসে হযরত আদম (আ) নবুওয়াতী মিশন পরিচালনা ও আল্লাহ তা›য়ালার ইবাদতের জন্য সর্বপ্রথম একখানা ঘরের প্রয়োজন বোধ করলেন। আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরের আকুতি পূরণের জন্য বায়তুল মামুর বরাবর দুনিয়ার বুকে একখানা ইবাদাত-গৃহ নির্মাণের ব্যবস্থা করে দিলেন। এ ঘরই হচ্ছে বর্তমান কা’বাগৃহ যা আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়ায় মানব জাতির জন্য প্রথম ঘর, বায়তুল্লাহ বা মাস্জিদ। খিলাফত সভ্যতার কেন্দ্র হল মাসজিদ : ধীরে ধীরে হযরত আদম (আ)-এর বংশ বৃদ্ধি হতে থাকে। এ ঘরকে কেন্দ্র করে মানব সমাজ গঠিত হয়। এভাবে আল্লাহর ঘরকে কেন্দ্র করে মানব জাতি তার ভবিষ্যৎ অভিযাত্রা শুরু করে। আর আল্লাহর সর্বপ্রথম নবী ও খলিফা হিসাবে হযরত আদম আলাইহিস্সাল্লাম এ মাস্জিদকে কেন্দ্র করে দুনিয়ার বুকে এক হাজার বছর আল্লাহ তা›য়ালার হুকুমে নবুওয়াত ও কল্যাণময় খিলাফত প্রসাশন পরিচালনা করেন। অতঃপর তাঁর বংশধরদের মধ্য থেকে আল্লাহর মনোনীত নবী (আ)-গণ দুনিয়ার বুকে মানব সভ্যতায় আরও প্রায় এক হাজার বছর এ মহান দায়িত্ব পালন করেন।
নবুওয়তী মিশনের আহ্বান ও বিরোধিতার পরিণাম :
আল্লাহর মনোনীত সমস্ত নবী-রাসূল (আ)-গণ দুনিয়ার বুকে সকল তাগুতসমূহ পরিত্যাগ করে একমাত্র আল্লাহ তা’য়ালার ইবাদাতের দিকে মানব জাতিকে আহ্বান করেছেন। যারা তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি তারা দুনিয়ার থেকে নির্মূল হয়ে যায়। পবিত্র কুরআন থেকে এর কতিপয় উপমা তুলে ধরা হল। হযরত নূহ আলাইহিস্সাল্লামের বিবরণ : হযরত আদম আলাইহিস্সাল্লামের ইন্তিকালের প্রায় এক হাজার বছর পর তাঁর বংশধরদের মাঝে যখন শিরক দেখা দেয় তখন আল্লাহ তা›য়ালা হযরত নূহ আলাইহিস্সাল্লাম-কে তাদের মাঝে রিসালাত ও হিদায়াতসহ প্রেরণ করেন। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন : আমি নূহকে তার জাতির নিকট প্রেরণ করেছিলাম, তিনি বলেছিলেন : হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য ভয়ঙ্কর দিনের শাস্তির ভয় করছি। (আরাফ : ৫৯)
সূত ডা. গাজী মোঃ নজরুল ইসলাম. দৈনিক ইনকিলাব

Friday, April 25, 2014

পর্দা জিনার পথ বন্ধ করে দেয়


পর্দা জিনার পথ বন্ধ করে দেয়


পর্দা শব্দটি বাংলা আরবিতে বলা হয় হিজাব যার আবিধানিক অর্থ আবরণ, আচ্ছাদন, অন্তরাল বা ঢেকে রাখা ইসলামী পরিভাষায় প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষ প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ আচ্ছাদিত করার নামই পর্দা বা হিজাব সাধারণ অর্থে পর্দা বলতে বেগানা পুরুষ বা বেগানা নারী থেকে নিজের মন-মানসিকতা, চোখ, কান জবানকে হেফাজত করে যৌন জীবনকে পবিত্র রাখা ইসলামী অনুশাসনে প্রত্যেক নারী-পুরুষ সবার জন্য পর্দা করা ফরজ, কেননা পর্দা অশ্লীলতা বেহায়াপনার পথ বন্ধ করে সমাজকে কলুষমুক্ত রাখে পর্দা জিনার পথ বন্ধ করে দেয় পক্ষান্তরে পর্দা সমাজে প্রতিষ্ঠিত না থাকার ফলেই জিনার পথ খুলে যায় অথচ আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমরা জিনার ধারেকাছেও যেও না মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, হে নবী! মুমিন পুরুষদেরকে বলে দিন, তারা যেন নিজেদের চোখকে বাঁচিয়ে চলে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হেফাজত করে এটা তাদের জন্য উত্তম, যা তারা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয় পুরোপুরি অবহিত (সূরা নূর : ৩০) অন্য আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, আর হে নবী! মুমিন স্ত্রীলোকদের বলুন, তারা যেন নিজেদের চোখকে নিম্নগামী রাখে, নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হেফাজত করে নিজেদের সাজসজ্জা না দেখায়; কেবল সেসব জিনিস ছাড়া যা আপনা হতে প্রকাশিত হয়ে পড়ে এবং নিজেদের বুকের ওপর ওড়নার অাঁচল ফেলে রাখে (সূরা নূর : ৩১) সূরা আরাফের ২৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান! আমি তোমাদের জন্য পোশাক নাজিল করেছি যেন তোমাদের দেহের লজ্জাস্থানসমূহ ঢাকতে পার এটা তোমাদের জন্য দেহের আচ্ছাদন শোভাবর্ধনের উপায়, সর্বোত্তম পোশাক হলো তাকওয়ার পোশাক পর্দায় থাকার সুবিধা সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, হে নবী! তোমার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ এবং মুমিন মহিলাদেরকে বলে দাও, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের ওপর টেনে নেয়, এতে তাদের চিনতে পারা যায় ফলে তাদেরকে সহজে উত্ত্যক্ত করা হবে না আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু (সূরা আহযাব: ৫৯)

মহান আল্লাহতায়ালা নারী-পুরুষ সবাইকে ইসলামী বিধানানুযায়ী চলার তৌফিক দিন আমিন

সূত্র : মুহাম্মদ আরিফুর রহমান জসিম, গবেষক, প্রাবন্ধিক, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

Friday, April 11, 2014

চেয়ারে বসে নামাজ আদায় প্রসঙ্গে

চেয়ারে বসে নামাজ আদায় প্রসঙ্গে
কাতারের মাঝখানে বা পাশে চেয়ার স্থাপন করার কারণে বিভিন্নভাবে মুসল্লিদের কাতারে যে মিলে দাঁড়ানোর কথা, তাতেও অনিয়ম দেখা দেয়। আবার কিছু লোক নিচে উপবিষ্ট, কিছু চেয়ারে, তাতেও কেমন যেন অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয়। যাতে মসজিদের যে পরিবেশ তাতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। এ ধরনের আরো বহু কারণে মুসলমানরা উৎসুক হয়ে উঠেছেন চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে শরিয়তের নীতি কী, তা জানতে
অ-অ+
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন মসজিদে চেয়ারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, সঙ্গে বেড়ে চলেছে চেয়ারে বসে নামাজ আদায়কারীর সংখ্যাও। হাঁটু, কোমর বা শরীরের অন্য কোনো অঙ্গে সামান্য ব্যথা অনুভব করে ডাক্তারের কাছে পরামর্শ নিতে গেলে ডাক্তার বলে দেন- আপনি নামাজি ব্যক্তি হলে চেয়ারে বসে নামাজ পড়বেন। বেশি উঠবোস করলে ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে। বেচারা রোগী মানুষ, করবেও বা কী? এসব কারণে সামান্য ব্যথা হলেই এখন চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। এ কারণে প্রায় মসজিদে চেয়ারও সংযুক্ত হচ্ছে কল্পনাতীতভাবে। কাতারের মাঝখানে বা পাশে চেয়ার স্থাপন করার কারণে বিভিন্নভাবে মুসল্লিদের কাতারে যে মিলে দাঁড়ানোর কথা, তাতেও অনিয়ম দেখা দেয়। আবার কিছু লোক নিচে উপবিষ্ট, কিছু চেয়ারে, তাতেও কেমন যেন অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয়। যাতে মসজিদের যে পরিবেশ তাতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। এ ধরনের আরো বহু কারণে মুসলমানরা উৎসুক হয়ে উঠেছেন চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে শরিয়তের নীতি কী, তা জানতে।
এমনই একজন উৎসুক ব্যক্তি উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগে এ ব্যাপারে একটি ফতোয়া চেয়েছেন। দারুল উলুম দেওবন্দের কেন্দ্রীয় দারুল ইফতার পক্ষ থেকে কয়েক পৃষ্ঠার একটি নিবন্ধ লিখে এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে, উত্তর দেন মুফতি যাইনুল ইসলাম কাসেমী। যা তাদের অনলাইন ফতোয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতেও বিষয়টি জানার দাবি রাখে, সে কারণে ওই ফতোয়াটি বাংলা ভাষা তুলে ধরেন মুফতি এনামুল হক কাসেমী

দাঁড়াতে ও সিজদা করতে সক্ষম এমন ব্যক্তির জন্য নামাজে কিয়াম বা দাঁড়ানো ফরজ এবং এটি নামাজের একটি রুকন। যদি দাঁড়ানো বা সিজদাদানে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ফরজ নামাজ বসে আদায় করা হয়, তবে নামাজের ফরজ বা রুকন ছেড়ে দেওয়ার কারণে নামাজ হবে না। নামাজ পুনরায় পড়তে হবে। (দুররে মুখতার, যাকারিয়া বুক ডিপো ২/১৩২)
এমনকি যদি নামাজের কিছু অংশ দাঁড়াতে সক্ষম, পুরো সময় দাঁড়িয়ে থাকতে অপারগ, তবে যেটুকু সময় দাঁড়াতে পারবে তা কোনো লাঠি বা দেয়ালের সঙ্গে ঠেস দিয়ে হলেও সেটুকু দাঁড়ানো ফরজ। এমতাবস্থায় যদি না দাঁড়ায় এবং কোনো কিছুর ওপর হেলান দিয়ে দাঁড়ানোর পরিবর্তে বসেই নামাজ আদায় করে, তবে নামাজ হবে না। (দুররে মুখতার ২/২৬৭)
যদি কোনো লোক দাঁড়াতে সক্ষম, কিন্তু রুকু-সিজদা বা শুধু সিজদা করতে সক্ষম নয়, তার জন্য বসে নামাজ আদায় করা জায়েজ। সে ইশারার মাধ্যমে রুকু-সিজদা করবে। এমতাবস্থায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করার চেয়ে বসে ইশারার মাধ্যমে নামাজ আদায় করা উত্তম। (দুররে মুখতার ২/৫৬৭), ফতোয়া আলমগীরী ১/১৩৬-তেও এরূপ রয়েছে।
যেসব অক্ষমতার কারণে দাঁড়ানোর আবশ্যিকতা রহিত হয়ে যায়, তা দুই প্রকার :
১। হাকিকি বা মৌলিক : এমন অক্ষম, যে দাঁড়াতে পারবে না।
২। হুকমি বা বিধানগত : এমন অক্ষম নয় যে, দাঁড়ানো সম্ভব না, বরং দাঁড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা অথবা এমন দুর্বলতা থাকে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে অক্ষমতা বলে বিবেচিত, যেমন অসুস্থতা, যার ব্যাপারে অভিজ্ঞ মুসলিম ডাক্তাররা পরামর্শ দেন যে দাঁড়ালে রোগ বৃদ্ধি পাবে অথবা সুস্থতা ফিরে আসতে বিলম্ব হবে কিংবা দাঁড়ানোর কারণে অসহনীয় ব্যথা অনুভূত হয়, এসব অবস্থায় বসে নামাজ আদায় করা জায়েজ। (দুররে মুখতার মাআ রদ্দুল মুহতার ২/৫৬৫)
যদি অসহনীয় ও অস্বাভাবিক ব্যথা না হয়, বরং সামান্য ব্যথা অনুভব হয়, তবে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে অক্ষমতা বলে বিবেচিত হবে না। এমতাবস্থায় বসে নামাজ আদায় করা জায়েজ নেই। (তাতারখানিয়া-যাকারিয়া বুক ডিপো-২/৬৬৭)
যে লোক দাঁড়াতে অক্ষম, কিন্তু মাটিতে বসে সিজদার সঙ্গে নামাজ আদায় করতে সক্ষম, তবে তাকে মাটিতে বসে সিজদাসহকারে নামাজ আদায় করতে হবে। মাটিতে সিজদা না করে চেয়ারের ওপর বসে বা মাটিতে বসে ইশারা করে নামাজ আদায় করা জায়েজ হবে না। (তাতারখানিয়া-যাকারিয়া বুক ডিপো-২/৬৬৭)
যদি রুকু ও সিজদা করতে অপারগ, কিন্তু মাটিতে বসে ইশারা করে নামাজ আদায় করতে সক্ষম, তবে তাশাহুদ অবস্থার মতো বসা আবশ্যক নয়। বরং যেকোনোভাবেই চাই মহিলাদের তাশাহুদে বসার মতো বা যে আসনে বসলে আরাম হয়, সেভাবেই মাটিতে বসে ইশারা করে নামাজ আদায় করবে। চেয়ারে বসা উচিত নয়। কারণ শরিয়ত এমন অপরাগদের মাটিতে বসার ব্যাপারে পূর্ণ ছাড় দিয়েছে, যে আসনে সম্ভব হয়, সেভাবেই বসে নামাজ আদায় করবে। (দুররে মুখতার মাআ শামী-২/৫৬৬)
এমতাবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করলে কয়েকটি কারণে মাকরুহ হবে।

Sunday, April 6, 2014

খতনার ফলে অনেক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়

তনার ফলে অনেক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় : গবেষণায় প্রমানিত


নতুন এক মার্কিন অস্ট্রেলিয়ার যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, ছেলে শিশুদের খতনা করানো হলে প্রাপ্ত বয়সে অনেক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় তবে খতনা করানো উচিত টিকা দেয়ার মতো করে

গবেষকদলের অধ্যাপক ব্রায়ান মরিস বলেন, যাদের খতনা করা হয় না, তাদের অর্ধেকের ত্বক-সংক্রান্ত মারাত্মক কিছু রোগের শিকার হওয়ার আশঙ্ক থাকে


বিজ্ঞানীরা জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব ছেলে শিশুদের খতনা করানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাদের মতে, খতনার ফলে তাৎক্ষণিক যে উপকার পাওয়া যায়, তা হলো কিডনিতে সমস্যা কারী ইউনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন থেকে রক্ষা

খতনা করা হলে যৌনক্রিয়া, স্পর্শকাতরতা বা আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হয় বলে যে মিথ রয়েছে, বিজ্ঞানী সেগুলোকে কুসংস্কার হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা বলেছেন, খতনায় কোনো খারাপ প্রতিক্রিয়া নেই

সূত্র - দৈনিক নয়াদিগন্ত।

বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে

বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে
ইনকিলাব ডেস্ক : ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল বলে নতুন এক স্টিং অপারেশনে উঠে এসেছে। এতদিন বলা হচ্ছিল, উন্মাদ জনতা হঠাৎ সিদ্ধান্তে ১৬ শতকে  মোগল স¤্রাট বাবরের আমলে নির্মিত মসজিদটি ধ্বংস করেছিল। কিন্তু নতুন তথ্যে দেখা যায়, মসজিদটি গুঁড়িয়ে দিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকজন নিয়োগ করা হয়েছিল। আর বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত ছিলেন তদানিন্তন প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং, বিজেপি নেতা এলকে আদভানি, উমা ভারতী প্রমুখ।
এই স্টিং অভিযান পরিচালনা করেছেন কোবরাপোস্টের সহযোগী সম্পাদক কে আশিষ। তিনি ‘অযোধ্যা মুভমেন্ট’ নামে একটি গ্রন্থও লিখছেন। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পেছনে আসল কারসাজি জানতে তিনি অযোধ্যা, ফৈজাবাদ, তান্ডা, লক্ষেèৗ, গোরক্ষপুর, মথুরা, মোরাদাবাদ, জয়পুর, আওরঙ্গবাদ, মুম্বাই ও গোয়ালিয়র সফর করেন। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কাজে সরাসরি জড়িত ছিল, এমন ২৩ জনের সাক্ষাতকারও নিয়েছেন তিনি ।
স্টিং অপারেশনে দেখা যায়, হিন্দুত্ববাদীরা ‘অপারেশন জন্মভূমি’ নাম দিয়ে কয়েক মাস আগে থেকেই গোপনে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজে নেমেছিল। কে, কোথা থেকে মসজিদে হামলা চালাবে, তার নিখুঁত পরিকল্পনা করে সে অনুযায়ী ব্যাপক প্রশিক্ষণ নেয়।
সাংবাদিক আশিষকে বিনয় কুমার, বিএল শর্মা, সন্তোস দুবের মতো বাবরি মসজিদ ভাঙার সাথে জড়িত লোকেরা জানিয়েছেন, তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও ‘সহায়ক ভূমিকা’ পালন করেছিলেন। ওই সময়ের ইউপি মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং দৃশ্যত এক দিন আগেই বাবরি মসজিদ ভাঙার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।
সূত্র - ইনকিলাব।

Sunday, March 23, 2014

মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফজিলত

মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফজিলত
মুফতি শামসুর রহমান পোরশা : মিসওয়াক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি বিশেষ সুন্নাত। বিভিন্ন হাদিস শরীফে মিসওয়াক করার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কে বেশি বেশি মিসওয়াক করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন হাদিস শরীফে হযরত আবু উমামা বাহেলী (রাযি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখনই জিবরাঈল (আ.) আমার নিকট আসতেন, তখনই আমাকে মিসওয়াক করার জন্য আদেশ দিতেন। যাতে আমার ভয় হতে লাগলো যে, মিসওয়াক করতে করতে আমি আমার মুখের সম্মুক দিক ক্ষয় করে দিব।’ (মেশকাত শরীফ- ১/৪৫) রাসূল (সা.)ও উম্মতগণকে মেসওয়াকের গুরুত্ব বোঝাতে, যেয়ে বলেন, ‘যদি উম্মতের কষ্ট ও অসুবিধার কথা চিন্তা না করতাম, তাহলে প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক তাদের ওপর আবশ্যক করে দিতাম।’ (মুসলিম শরীফ- ১/১২৮)