দুনিয়ার সুখ সুখ না, জান্নাতের সুখই আসল সুখ

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোন কাজটি আল্লাহর নিকট সবচাইতে প্রিয়? তিনি বললেন, ‘ঠিক সময়ে নামায আদায় করা।’ তিনি (আবদুল্লাহ) পুনরায় বললেন, এরপর কোন কাজটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়? নবী (সাঃ) বললেন, ‘পিতামাতার সেবা ও আনুগত্য করা। তিনি আবারও জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কোন কাজটি? জবাবে নবী (সাঃ) বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

দুনিয়া ক্ষনস্থায়ী, নিশ্চই আমিও দুনিয়ায় ক্ষনস্থায়ী

“ তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানুষের(কল্যাণের) জন্য তোমাদেরকে বের করা হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে।” -সূরা আল-ইমরান, আয়াত-১১০

দুনিয়ার দুঃখ দুঃখ না, জাহান্নারের দুঃখ আসল দুঃখ

হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমাকে দেখেছে এবং আমার উপর ঈমান এনেছে তার জন্য তো একবার মোবারকবাদ। আর যে আমাকে দেখে নাই তারপরেও আমার উপর ঈমান এনেছে তাকে বারবার মোবারকবাদ - মুসনাদ আহমাদঃ ৩/১০০

নামাজ বেহেস্তের চাবি

রাসুলে পাক (সা:) বলেছেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমার উম্মতের উপর সর্বপ্রথম নামাজ ফরজ করেছেন এবং কেয়ামতের দিন সবার আগে নামাজের হিসাব নয়া হবে।

কালেমা পড়ি, ঈমান আনি, বলি আমি মুসলিম

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোন কাজটি আল্লাহর নিকট সবচাইতে প্রিয়? তিনি বললেন, ‘ঠিক সময়ে নামায আদায় করা।’ তিনি (আবদুল্লাহ) পুনরায় বললেন, এরপর কোন কাজটি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়? নবী (সাঃ) বললেন, ‘পিতামাতার সেবা ও আনুগত্য করা। তিনি আবারও জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কোন কাজটি? জবাবে নবী (সাঃ) বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

Friday, November 28, 2014

বেহেশত কি?

আসলে বেহেশত কি?


আসলে বেহেশত কি?

হযরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! বেহেশত কিসের তৈরি? 


উত্তরে হুজুর (সা.) এরশাদ করেন, একটি স্বর্ণের ইট, একটি রৌপ্যের ইট এবং প্রাসাদ তৈরির উপকরণ (যার দ্বারা ইটগুলোকে পরস্পর গাঁথা হয়েছে) তীব্র সুবাসযুক্ত কস্তুরী, তার ইট, মোতি ও ইয়াকুত এবং তার মাটি জাফরান।

যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে সে চিরস্থায়ীভাবে নিয়ামতের মধ্যে থাকবে। সে কখনো কোনো বস্তুর মুখাপেক্ষী হবে না, অনন্ত জীবনের অধিকারী হবে এবং কখনো তার মৃত্যু হবে না।

বেহেশতীদের পোশাক-পরিচ্ছদ কখনো পুরাতন হবে না, তাদের যৌবনশক্তিও কখনো ক্ষয় পাবে না। (আহমদ ও তিরমিজী)

আরও জানুন - এই লিঙ্ক থেকে


সূত্র : বিডি লাইভ 24. 


Tuesday, November 25, 2014

ঘুমানোর ইসলামী বিধান

ঘুমানোর ইসলামী বিধান

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

রসুল (সা.) সব সময় ডান পাশ হয়ে ডান হাতের তালুর ওপর মুখমণ্ডলের অংশ বিশেষ (গাল) রেখে কিবলামুখী হয়ে শয়ন করতেন এর কারণ অজানা নয় বুকের বাম পাশে হৃৎপিণ্ডের অবস্থান চিকিৎসকরা সব সময় হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ প্রয়োগে নিষেধ করেছেন সুতরাং কেউ বাম পাশ হয়ে শয়ন করলে স্বাভাবিকভাবেই তার হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ পড়বে রসুল (সা.) ঘুমানোর আগে এক খণ্ড বস্ত্র দিয়ে তিনবার তার বিছানা পরিষ্কার করে নিতেন যাতে কোনো বিষাক্ত পোকামাকড় তাকে কামড়ানোর সুযোগ না পায় আমাদের আজ ভাবতে অবাক লাগে ১৪০০ বছর আগে যখন আধুনিক কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল না তখনকার সময়ে উম্মি নবী (সা.) আমাদের ঘুমানোর আদর্শ পদ্ধতি বাতলে গেছেন 

Saturday, October 4, 2014

বিদায় হজের ভাষণ


বিদায় হজের ভাষণ ইসলামী দীগন্ত ডেস্ক)

অক্টোবর ২০১৪, শনিবার, :১৫

শুক্রবার, জিলহজ, ১০ হিজরি সনে আরাফার দিন দুপুরের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লক্ষাধিক সাহাবির সমাবেশে হজের সময় এই বিখ্যাত ভাষণ দেন

হাম্দ সানার পর স্বীয় ভাষণে এরশাদ করেন : আল্লাহ্ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই তার সমকক্ষ কেউ নেই
আল্লাহ্ তার ওয়াদা পূর্ণ করেছেন তিনি তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন আর তিনি একাই বাতিল শক্তিগুলো পরাভূত করেছেন
হে আল্লাহ্র বান্দারা! আমি তোমাদের আল্লাহ্রএবাদত তার বন্দেগির ওসিয়ত করছি এবং এর নির্দেশ দিচ্ছি
হে লোক সকল! তোমরা আমার কথা শোন এরপর স্থানে তোমাদের সাথে আর একত্র হতে পারব কি না জানি না
হে লোক সকল! আল্লাহ্তায়ালা এরশাদ করেছেন, হে মানব জাতি! তোমাদেরকে আমি একজন পুরুষ একজন নারী থেকে পয়দা করেছি এবং তোমাদেরকে সমাজ গোত্র ভাগ করে দিয়েছি যেন তোমরা পরস্পরের পরিচয় জানতে পারো
তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহ্র দরবারে অধিকতর সম্মান মর্যাদার অধিকারী, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া অবলম্বন করে, সব বিষয়ে আল্লাহ্র কথা অধিক খেয়াল রাখে ইসলামে জাতি, শ্রেণীভেদ বর্ণবৈষম্য নেই আরবের ওপর কোনো আজমের, আজমের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই তেমনি সাদার ওপর কালোর বা কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই মার্যাদার ভিত্তি হলো কেবল তাকওয়া
আল্লাহর ঘরের হিফাজত, সংরক্ষণ হাজিদের পানি পান করানোর ব্যবস্থা আগের মতো এখনো বহাল থাকবে
হে কুরাইশ সম্প্রদায়ের লোকগণ! তোমরা দুনিয়ার বোঝা নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে যেন আল্লাহ্র সামনে হাজির না হও আমি আল্লাহ্র বিরুদ্ধে তোমাদের কোনোই উপকার করতে পারব না
শুনে রাখো, সব জাহেলি বিষয় প্রথা আজ আমার পায়ের নিচে জাহেলি যুগের রক্তের দাবিও রহিত করা হলো সর্বপ্রথম আমি আমার কবিলার রক্তের দাবি অর্থাৎ রবি ইবনুল হারিসের পুত্রের রক্তের দাবি রহিত ঘোষণা করছি বনু সাদ গোত্রে থাকাকালে হুজাইলিরা তাকে হত্যা করেছিল
জাহেলি যুগের সুদও রহিত করা হলো সর্বপ্রথম আমি আমার কবিলার সুদের দাবি অর্থাৎ চাচা আব্বাসের সুদ মাফ করে দিলাম সুতরাং সব সুদই আজ রহিত করা হলো
হে লোকসকল! তোমাদের রক্ত, তোমাদেরইজ্জত, তোমাদের সম্পদ পরস্পরের জন্য চিরস্থায়ীভাবে হারাম করা হলো, যেমন আজকের এই দিন, আজকের এই মাস, তোমাদের এই শহর সবার জন্য হারাম (পবিত্র নিরাপদ)
তোমরা শিগগিরই আল্লাহ্র দরবারে হাজির হবে তিনি তোমাদের সবাইকেই তোমাদেরআমলসম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন
শুনে রাখো, অপরাধীর দায়িত্ব কেবল তার ঘাড়েই বর্তায় পিতা তার পুত্রের জন্য আর পুত্র তার পিতার অপরাধের জন্য দায়ী নয়
হে লোক সকল! নারীদের সম্পর্কে আমি তোমাদের সতর্ক করে দিচ্ছি এদের প্রতি নির্মম ব্যবহার করার সময় আল্লাহ্র দণ্ড সম্পর্কে নির্ভয় হয়ো না নিশ্চয়ই তাদের তোমরা আল্লাহ্র জামিনে গ্রহণ করেছ এবং তাঁরই বাক্যের মাধ্যমে তাদের সাথে তোমাদের দাম্পত্য সম্পর্ক হয়েছে জেনে রাখো, তাদের ওপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমাদের ওপর তাদেরও অধিকার রয়েছে সুতরাং তাদের কল্যাণ সাধনের বিষয়ে তোমরা আমার নসিহত গ্রহণ করো
তোমরা তোমাদের অধীনস্থদের সম্পর্কে সতর্ক হও নিজেরা যা খাবে, তাদেরও তা খাওয়াবে, নিজেরা যা পরবে, তাদেরও তা পরাবে
হে লোক সকল! শুনে রাখো, মুসলিমরা পরস্পর ভাই সাবধান! আমার পরে তোমরা একজন আরেকজনকে হত্যা করার মতো কুফরি কাজে লিপ্ত হয়ো না
হে লোকসকল! আল্লাহ্ প্রত্যেককেই তার যথাযথ অধিকার দিয়েছেন সুতরাং উত্তরাধিকারীর জন্য কোনোরূপ ওসিয়ত কার্যকর হবে না
সন্তান হলো বিবাহিত দম্পতির ব্যভিচারীর সন্তানের অধিকার নেই আর সবার হিসাব-নিকাশ আল্লাহ্র ওপরই ন্যস্ত
যে ব্যক্তি নিজের পিতার স্থলে অপরকে পিতা বলে পরিচয় দেয়, নিজের মওলা বা অভিভাবককে ছেড়ে দিয়ে অন্য কাউকে মওলা বা অভিভাবক বলে পরিচয় দেয়, তার ওপর আল্লাহ্র লানত
ঋণ অবশ্যই ফেরত দিতে হবে প্রত্যেক আমানত তার হকদারের কাছে অবশ্যই আদায় করে দিতে হবে
কারো সম্পত্তি সে যদি স্বেচ্ছায় না দেয়, তবে তা অপর কারো জন্য হালাল নয় সুতরাং তোমরা একজন অপরজনের ওপর জুলুম করবে না এমনিভাবে কোনো স্ত্রীর জন্য তার স্বামীর সম্পত্তির কোনো কিছু তার সম্মতি ব্যতিরেকে কাউকে দেয়া হালাল নয়
যদি কোনো নাক-কান কাটা হাবশি দাসকেও তোমাদের আমির বানিয়ে দেয়া হয় তবে সে যত দিন আল্লাহ্র কিতাব অনুসারে তোমাদেরকে পরিচালিত করবে, তত দিন অবশ্যই তার কথা মানবে, তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবে
শোন, তোমরা তোমাদের প্রভুরএবাদত করবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথারীতি আদয় করবে, রমজানের রোজা পালন করবে, স্বেচ্ছায় খুশি মনে তোমাদের সম্পদের জাকাত দেবে, তোমাদের রবের ঘর বায়তুল্লাহ্র হজ করবে আর আমিরের ইতায়াত করবে; তা হলে তোমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারবে
হে লোকসকল! আমার পর আর কোনো নবী নেই, আর তোমাদের পর আর কোনো উম্মতও নেই
আমি তোমাদের কাছে দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি যত দিন তোমরা দুটোকে আঁকড়ে থাকবে, তত দিন তোমরা গোমরাহ্ হবে না সে দুটো হলো আল্লাহ্র কিতাব আর রাসূলের সুন্নাত
তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকবে কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা দীনের ব্যাপারে এই বাড়াবাড়ির দরুন ধ্বংস হয়েছে
এই ভূমিতে আবার শয়তানের পূজা হবেÑ বিষয়ে শয়তান নিরাশ হয়ে গেছে কিন্তু ুদ্র ুদ্র বিষয়ে তোমরা তার অনুসরণে লিপ্ত হয়ে পড়বে এতে সে সন্তুষ্ট হবে সুতরাং তোমাদের দীনের বিষয়ে তোমরা শয়তান থেকে সাবধান থেকো
শোনো, তোমরা যারা উপস্থিত আছ, যারা উপস্থিত নেই তাদের কাছে এই পয়গাম পৌঁছে দিয়ো অনেক সময় দেখা যায়, যার কাছে পৌঁছানো হয় সে পৌঁছানেওয়ালার তুলনায় অধিক সংরক্ষণকারী হয়
তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে তখন তোমরা কী বলবে?
সমবেত সবাই সমস্বরে উত্তর দিলেন : আমরা সাক্ষ্য দেবো, আপনি নিশ্চয় আপনার ওপর অর্পিত আমানত আদায় করেছেন, রিসালতের দায়িত্ব যথাযথ আনজাম দিয়েছেন এবং সবাইকে নসিহত করেছেন
[রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশের দিকে পবিত্র শাহাদত অঙ্গুলি তুলে আবার নিচে মানুষের দিকে নামালেন]
হে আল্লাহ্! তুমি সাক্ষী থাকো হে আল্লাহ্! তুমি সাক্ষী থাকো

Thursday, September 25, 2014

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফযিলত ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত আমল

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফযিলত ও 


সহিহ হাদিসে বর্ণিত আমল


আল্লাহ তা‘আলা দয়ালু। তাই তিনি আপন বান্দাদের তওবার সুযোগ দিতে ভালোবাসেন। তিনি চান বান্দারা ইবাদাতের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করুক। এই উদ্দেশ্যে তিনি আমাদের জন্য বছরে কিছু বরকতময় ও কল্যাণবাহী দিন রেখেছেন যাতে আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। আমরা পরীক্ষার দিনগুলোতেসর্বোচ্চ চেষ্টা চালাই সবচেয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করার জন্য। তবে কেন আখেরাতের জন্য এসব পরীক্ষার দিনগুলোতেও সর্বাধিক প্রচেষ্টা ব্যয় করব না? এ দিনগুলোতে আমল করা তো বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি নেকী ও কল্যাণ বয়ে আনে। এমন দিনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য যিলহজ মাসের এই প্রথম দশদিন। এ দিনগুলো এমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেগুলোকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাতে আমলের প্রতি তিনি সবিশেষ উদ্বুদ্ধ করেছেন। এ দিনগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে শুধু এতটুকুই যথেষ্ট যে আল্লাহ তা‘আলা এর কসম করেছেন।

 যে কারণে এই দশ দিন বছরেরশ্রেষ্ঠ দশ দিন

Friday, August 29, 2014

বিজ্ঞানের আলোকে সালাত

বিজ্ঞানের আলোকে সালাত
প্রফেসর ড. মোহা: একরামুল হক


দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত বা নামাজ কায়েম করা সারা মুসলিম উম্মাহর ওপর ফরজ করেছেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। ঈমানের পরেই সালাতের স্থান, যা ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার ওপরই ফরজ। বলা হয়েছে ‘আস্সালাতু ইমাদ উদ্-দ্বীন’। সালাত হচ্ছে দ্বীনের বা ধর্মের খুঁটি।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সালাতের ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে, নামাজের আগে কেন অজু করার বিধান দেয়া হলো সে ব্যাপারে আলোচনা করা প্রয়োজন। বহু মাওলানাকে আমি প্রশ্ন করেছি, নামাজ আদায়ের আগে অজু কেন করতে হবে? এক বাক্যে সবাই বলেছেন, দেহ ও মনের পবিত্রতা অর্জনের জন্য। কিন্তু ব্যাপারটার সাথে আমি কোনো

Thursday, August 14, 2014

ইসলামের এক জ্বলন্ত মোজেজা ইমাম বোখারি (রহ.)

ইসলামের এক জ্বলন্ত মোজেজা ইমাম বোখারি (রহ.)

[প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র বাণী হলো হাদিস। এসব হাদিসকে সংরক্ষণ করে গ্রন্থবদ্ধ করা হয়। এ ধরনের ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ রয়েছে। এর মধ্যে হজরত ইমাম বোখারি (রহ.) প্রণীত গ্রন্থ হলো বোখারি শরিফ। যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এই বিখ্যাত গ্রন্থের প্রণেতা পবিত্র এ শাওয়াল মাসেই জন্ম নেন এবং মৃত্যুবরণ করেন। ক্ষণজন্মা এই মণীষীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ সংক্ষিপ্তাকারে তাঁর জীবনী পত্রস্থ করা হলো]
ইসলামের ঊষালগ্ন থেকে এমন কিছু সোনার মানুষের আবির্ভাব হয়েছে, যাঁদের প্রভাব এবং বিভায় এ বসুন্ধরা এখনো এত অনিন্দ্যসুন্দর, শান্তি এবং জ্ঞানের প্রতিভু হয়ে যাঁরা এ বিশ্বকে আলোকিত করেছিলেন। পৃথিবীতে বিপ্লব সৃষ্টিকারী সেসব আলোকিত মানুষের মধ্যে অন্যতম হলেন- আমিরুল মু'মিনীন ফিল হাদিস, ইসলামের এক জ্বলন্ত মোজেজা, ইমাম বোখারি (রহ.)। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বর্তমানে উজবেকিস্তানের অধীনে মুসলিম অধ্যুষিত একটি প্রসিদ্ধ নগরী বোখারায় বিশ্ববরেণ্য হাদিস শাস্ত্রবিদ ইমাম বোখারি (রহ.) ১৯৪ হিজরির ১৩ শাওয়াল মোতাবেক ৮১০ খ্রিস্টাব্দের ২১ জুলাই জুমার নামাজের পর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নাম মুহাম্মদ, উপনাম আবু আবদুল্লাহ। উপাধি আমিরুল মু'মিনীন ফিল হাদিস। জন্মস্থান বোখারায়, তাই তাঁকে বোখারি বলা হয়। তাঁর বাবা ইসমাইল, দাদা ইবরাহিম। তাঁর বাবা ছিলেন প্রসিদ্ধ হাদিস বিশারদ। তিনি ছিলেন তৎকালীন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাম্মাদ (রহ.) ও ইমাম মালেক (রহ.) (৯৩-১৭৯ হি.)-এর অন্যতম শাগরেদ। ইমাম বোখারি (রহ.) শিক্ষা, জ্ঞান ও যোগ্যতা শুধু পিতার দিক থেকেই পাননি, বরং মায়ের দিক থেকেও অর্জন করেছিলেন। ইমাম বোখারি (রহ.)-এর মাও ছিলেন একজন মহীয়সী নারী। তিনি শৈশবেই পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হন। লালিত-পালিত হন তাঁর মমতাময়ী মায়ের কোলে।
শিক্ষাজীবন : ইমাম বোখারির শিক্ষাজীবন শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে। মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি কোরআন মুখস্থ করেন। ১০ বছর বয়স থেকে তিনি হাদিস মুখস্থ করা শুরু করেন। এ সময়ই তিনি প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবদুল্লাহ বিন মুবারক (রহ.) এবং ওয়াকি বিন জাররাহ (রহ.)-এর সব পাণ্ডুলিপি মুখস্থ করেন। তখন থেকে হাদিস চর্চার প্রতি তাঁর অন্য রকম আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তিনি নিজেই বলেন, '১০ বছর থেকে হাদিস চর্চায় আমি প্রচণ্ড আগ্রহ অনুভব করি।' তিনি ১৭ বছর বয়সে হাদিস শিক্ষা সমাপ্ত করেন। ১৮ বছরের আগে থেকেই তাঁর কাছে লোকদের ভিড় বাড়তে থাকে। তিনি যখন হাদিস শিক্ষাদানে ব্রত হন, তখন তাঁর মুখে দাড়িও গজায়নি।
যাঁদের শিক্ষায় ধন্য হন ইমাম বোখারি : হাদিসের জ্ঞান অর্জনে হাজার হাজার মুহাদ্দিসের সান্নিধ্য লাভ করেছেন ইমাম বোখারি (রহ.)। তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মুহাদ্দিসগণ হলেন ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.), ইয়াহইয়া বিন মায়িন, আলী ইবনুল মাদিনী এবং ইসহাক বিন রাহওয়াই।
উচ্চতর শিক্ষা লাভে বিদেশ গমন : ১৬ বছরেই তিনি মা এবং বড় ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম হজে যান। হজের পর তিনি মক্কা শরিফে থেকে যান এবং হেজাজের মুহাদ্দিসদের কাছে হাদিস পড়তে শুরু করেন। এ ছাড়া হাদিসের জ্ঞান লাভের অদম্য স্পৃহা নিয়ে তিনি চষে বেড়িয়েছেন সিরিয়া, বসরা, কুফা, মিসর, বাগদাদ, হেজাজসহ অসংখ্য ইসলামী নগরীতে। এসব শহর-নগরে তিনি বহুবার গিয়েছেন।
অসাধারণ স্মৃতিশক্তি : শৈশবেই তাঁর অসাধারণ স্মৃতিশক্তি এবং তীক্ষ্ন মেধার স্ফূরণ ঘটে।